মেসি-কাণ্ডে নয়া মোড়! ৫ কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে বিপাকে উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত

ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির কলকাতা সফর এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই জমকালো অনুষ্ঠান নিয়ে নতুন করে দানা বাঁধল বিতর্ক। অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মানহানি এবং ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনলেন কলকাতার এক ব্যবসায়ী অভিজিৎ দত্ত। ইতিমধ্যেই প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিজিৎ দত্তের দাবি, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মেসির অনুষ্ঠানে বৈধ টিকিট কেটে এবং আয়োজক সংস্থার অনুমতিপত্র নিয়েই তিনি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁর কাছে সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্রও রয়েছে। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে শতদ্রু দত্ত তাঁকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে বলা হয় যে, তিনি নাকি অবৈধভাবে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেছিলেন। এর পরেই তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি পরবর্তীকালে মধ্যস্থতাকারী এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে সেই দাবির অঙ্ক ১ কোটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
অভিজিৎ দত্ত জানিয়েছেন, মেসির অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঠে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হয়েছিল এবং তিনি নিজেও সেখানে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। অথচ, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁকে ওই ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁর সামাজিক সম্মানহানির শামিল।
এই ঘটনার জেরে চরম মানসিক চাপে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ দত্ত। থানায় জমা দেওয়া অভিযোগে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে তার সমস্ত দায়ভার থাকবে শতদ্রু দত্তের ওপর। ব্যবসায়ী রাজ্য সরকারের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উদ্যোক্তার প্রতিক্রিয়া: এই বিস্ফোরক অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীর আনীত অভিযোগের সত্যতা কতখানি, তা পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।