মিছিল ও বিক্ষোভ নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের! রাজ্যে কি এবার বদলাতে চলেছে আন্দোলনের নিয়ম?

রাজ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভা, সমিতি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মবিধি বা গাইডলাইন তৈরি করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এই বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত ২৪ জুলাই ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর দুষ্কৃতী হামলার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল ২৪ জুলাই?

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের অতিসক্রিয়তার প্রতিবাদে গত ২৪ জুলাই বামছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর (SFI) ডাকে কলকাতার ধর্মতলায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই মিছিলে সমাজবিরোধীরা সুকৌশলে অনুপ্রবেশ করে এবং বিনা প্ররোচনায় কর্তব্যরত সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আর্জি জানিয়ে ‘এই সময়’ সংবাদমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক শিলাদিত্য কর কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার মামলার শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ করলেও এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপও দাবি করা হয়।

রাজ্যের বক্তব্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এক মামলার শুনানিতে রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের গাইডলাইন সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়েছিল হাইকোর্ট। তবে সেই সময় তা জমা পড়েনি। বর্তমানে রাজ্য সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে এবং আদালত নির্দেশ দিলে রাজনৈতিক দলগুলির মিটিং-মিছিলের সময়সীমা ও স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং রিপোর্ট পেশ করতে প্রস্তুত রাজ্য।

উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ২৫ অগস্ট। আদালতের এই হস্তক্ষেপে রাজ্যের আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনসভার পরিসরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *