অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় অ্যাকশন! ৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যে কোনো বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে আশ্রয় দেওয়া হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে মাত্র এক মাসের মধ্যেই।

৪৮০০ জনকে ফেরত, বাড়ছে ধরপাকড় নিউ টাউনে বিজেপির এক প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, গত এক মাসে রাজ্যে প্রায় ৪৮০০ জন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন এই অনুপ্রবেশকারীরা জেলে থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের খরচে অন্নসংস্থান করতে পারত, যা এখন বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ভারত সরকারের আইন মেনে আদালত প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে সরাসরি তাদের সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।

হোল্ডিং সেন্টারে ৮৩৬ জন শুধুমাত্র ফেরত পাঠানোই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮৩৬ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে আটক রয়েছে। তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শীঘ্রই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। এই বিশেষ প্রক্রিয়া আগামী দিনেও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সীমান্ত সুরক্ষায় বড় উদ্যোগ অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-এর (BSF) হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, সিএএ (CAA) কার্যকর করার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ আরও দ্রুত করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া মনোভাব প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজ্যের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে সরকার যে কোনো আপস করতে নারাজ, তা এই পদক্ষেপ থেকেই পরিষ্কার।