জন্মের হারে বড় পতন! ভারতকে নিয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা দিলেন ইলন মাস্ক

ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে এবার সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক। প্রজনন হার বা ফার্টিলিটি রেট কমে যাওয়া নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট শেয়ার করে মাস্ক সতর্ক করেছেন যে, ভারত এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
রিপোর্টে কী উঠে এসেছে? এএফপি (AFP) পোস্টের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতে প্রজনন হার বা ফার্টিলিটি রেট এখন ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর চেয়েও অনেক নিচে নেমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
-
গত এক দশকেই ভারতের জন্মহার ২.৩ থেকে কমে ১.৯-এ নেমে এসেছে।
-
বর্তমানে এই হার মাত্র ১.২, যা ফিনল্যান্ডের মতো দেশের চেয়েও কম।
-
রিপ্লেসমেন্ট লেভেল বজায় রাখার জন্য মহিলা প্রতি গড়ে ২.১ জন শিশুর জন্ম হওয়া প্রয়োজন, যা বর্তমানে ভারতে অনুপস্থিত।
ইলন মাস্কের উদ্বেগ: এই রিপোর্টটি শেয়ার করে মাস্ক লিখেছেন, “ভারতে জন্মের হার রিপ্লেসমেন্টের নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজের মধ্যে এই প্রবণতা অনেক আগে থেকেই দেখা যাচ্ছে।” তাঁর মতে, এই হার অব্যাহত থাকলে ভারতের জনসংখ্যা খুব দ্রুত কমতে শুরু করবে।
কেন এই পরিস্থিতি চিন্তার? জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জন্মহার দীর্ঘসময় ধরে কম থাকলে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় প্রভাব পড়ে: ১. বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি: জন্মহার কমে গেলে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বাড়বে, যা স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ২. কর্মক্ষম মানুষের অভাব: নতুন প্রজন্মের জন্ম কম হওয়ার ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে আসবে, যা দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতিকে ধাক্কা দিতে পারে। ৩. জনসংখ্যার ভারসাম্য: বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্য বাদে ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই জন্মহার রিপ্লেসমেন্ট লেভেলের নিচে।
যদিও বর্তমানে ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ (প্রায় ১৪৬ কোটি), কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জের ২০২৫ সালের রিপোর্ট বলছে, ভারতের জনসংখ্যার চরিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। ছোট পরিবার এবং নিম্নমুখী প্রজনন হার আগামী দিনে ভারতের জনতাত্ত্বিক ডিভিডেন্ডের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।