মদের প্রতি বোতলে কাটমানি! আবগারি দুর্নীতি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তাপস রায়

রাজ্যের আবগারি নীতি ও আর্থিক দুর্নীতি ইস্যুতে এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ তাপস রায়। তাঁর দাবি, মদের ব্যবসা থেকে সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের টাকা একটি সুপরিকল্পিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পৌঁছে যেত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘরে।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ: তাপস রায়ের অভিযোগ, ২০১৭ সালে রাজ্যের আবগারি নীতিতে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মদ ও বিয়ার উৎপাদনকারী সংস্থা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত লেভি বা চাঁদা আরোপ করা হয়। তাঁর দাবি, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পুরোটাই ছিল একটি সংগঠিত তোলাবাজির ব্যবস্থা। তাপস রায় অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত একটি সিন্ডিকেট এই পুরো টাকা সংগ্রহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করত।

পুরানো বিতর্ক, নতুন উত্তেজনা: উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেও সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে এই ধরনের দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছিল। দীর্ঘ সময় পর ফের এই ইস্যুটি সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আবগারি নীতিকে ব্যবহার করে যে বিপুল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, তা যদি সত্যি হয় তবে তা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেবে।

তদন্তের দাবি: মন্ত্রী তাপস রায় এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের উচিত এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং যদি সত্যিই এই ধরনের কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে, তবে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অভিযোগের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, এই বিস্ফোরক বয়ান যে শাসকদলের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।