প্রতিরক্ষায় আরও শক্তিশালী ভারত! রাশিয়া থেকে আরও পাঁচটি এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কেনার প্রস্তুতি

আকাশসীমা সুরক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। ২০১৮ সালে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ (S-400) ব্যাটারির মধ্যে চতুর্থ ব্যাটারিটি পাওয়ার পর, এবার ভারত আরও পাঁচটি নতুন এস-৪০০ সিস্টেম কেনার কথা বিবেচনা করছে।

চুক্তি ও সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি: আট বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই অত্যাধুনিক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ ব্যাটারিটি সম্প্রতি ভারতে এসে পৌঁছেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ের চেয়ে এই সরবরাহ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার খাতিরে মস্কো এই সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ২০১৮ সালের চুক্তির পঞ্চম বা চূড়ান্ত ব্যাটারিটিও ভারত হাতে পেয়ে যাবে।

কেন আরও পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম? ভারত সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ:

  • কার্যকারিতা: এস-৪০০ সিস্টেমটি ভারতের বায়ু প্রতিরক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। অতীতে সীমান্তের বিভিন্ন অপারেশনে এই সিস্টেমের সাফল্য ভারতীয় বাহিনীর মনোবল জুগিয়েছে।

  • প্রতিরক্ষা কৌশল: শত্রুপক্ষের দূরপাল্লা ও উচ্চতা থেকে আসা যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় এস-৪০০ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি: ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার নিজস্ব অনেক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এস-৪০০ সিস্টেম রপ্তানি করে যে রাজস্ব আয় হবে, তা রাশিয়া তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ড্রোন-প্রতিরোধ প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যয় করতে সক্ষম হবে। এছাড়া, এস-৪০০ মূলত দূরপাল্লার উচ্চ উচ্চতার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তাই রাশিয়ার নিজস্ব ভূখণ্ডে নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন মোকাবিলায় এটি হয়তো ততটা কার্যকর নয়। এই কারণেই রাশিয়া এস-৪০০ রপ্তানিকে বাণিজ্যের একটি কৌশলগত অংশ হিসেবে দেখছে।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।