ফের বাড়ল উদ্বেগ! পেট্রল-ডিজেলের দাম কি আরও ৫ টাকা বাড়তে চলেছে? জল্পনা তুঙ্গে

পেট্রল ও ডিজেলের লাগাতার দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বস্তির কোনো খবর নেই। বরং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMC) বিশাল আর্থিক লোকসানের জেরে দেশজুড়ে ফের জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, খুব শীঘ্রই পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে আরও প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
কেন এই লোকসান? আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দামই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ফলে ক্রুড অয়েলের দাম দীর্ঘসময় ধরে উচ্চস্তরে রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি কয়েক দফায় দাম বাড়ালেও তা প্রকৃত খরচের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
পরিসংখ্যান কী বলছে? শিল্প মহলের ধারণা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ১২ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ২১ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ত্রৈমাসিকে (জুন ২০২৬) সংস্থাগুলির মোট লোকসান ৭৪ হাজার কোটি থেকে ৮৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
জনগণের ওপর প্রভাব: ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলি ভারতের জ্বালানি বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংস্থাগুলির মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ওপরই দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ নির্ভর করে। সরকার বা তেল সংস্থাগুলির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণার কথা না শোনালেও, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাকেই জোরালো করছে।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তীকালে কোনো ভর্তুকি বা কর হ্রাসের পথে হাঁটে কি না, নাকি ফের জ্বালানির মূল্যে বড়সড় ধাক্কা আসে।