ইরানে কি তবে গৃহযুদ্ধের চরম ছক? প্রথমবার লিখিত বার্তায় দেশবাসীকে ভয়ংকর হুঁশিয়ারি সর্বোচ্চ নেতার!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এবার এক চরম নাটকীয় মোড়। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়ংকর সতর্কবার্তা জারি করলেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মোজতবা সাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মতো শত্রু রাষ্ট্রগুলো সামরিক ময়দানে ইরানের শক্তির কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছে। আর সেই কারণেই তারা এখন সরাসরি যুদ্ধ না করে, ইরানের ভেতরে বড়সড় অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গণবিদ্রোহ সৃষ্টির গোপন ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে। সর্বোচ্চ নেতা অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের জনগণের মধ্যে হতাশা বা ক্ষোভ সৃষ্টিকারী যেকোনো পদক্ষেপ এই মুহূর্তে শত্রুকে সরাসরি সাহায্য করার শামিল।
প্রকৃতপক্ষে, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই মুহূর্তে তীব্র আশঙ্কা করছে যে, ইজরায়েল ও মার্কিন প্রশাসন একযোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি মারাত্মক ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ (সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ) শুরু করতে চলেছে। অতীতেও একাধিকবার ইরানে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও সরকার-বিরোধী আন্দোলন উস্কে দেওয়ার নেপথ্যে এই দুই দেশের হাত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহকে ইরানের এতটা ভয় পাওয়ার পেছনে মূলত ৩টি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা:
প্রাক্তন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেইকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে, দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর থেকে মোজতবা আজ পর্যন্ত একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি তাঁর নতুন কোনও ভিডিও বা ছবিও প্রকাশ করা হয়নি। মোজতবা কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে দেশের শাসনভার পরিচালনা করছেন, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহলে তাঁকে নিয়ে নানা রহস্য এবং জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
২. নেতানিয়াহুর সরাসরি গণবিক্ষোভের উস্কানি:
ঠিক এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সাধারণ জনগণকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সিএনবিসি’ (CNBC)-কে দেওয়া একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, “ইরানের বর্তমান মৌলবাদী সরকার এই মুহূর্তে পতনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন দেশের সাধারণ জনগণ শুধু একবারের জন্য একজোট হয়ে রাস্তায় নামলেই এই সরকারের পতন নিশ্চিত।”
৩. মার্কিন অস্ত্রের বিশাল গোপন ভাণ্ডার উদ্ধার:
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করে গত মে মাসে (২০২৬)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন, ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড’ (IRGC) ইরাকি সীমান্ত থেকে আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্রের এক বিশাল গোপন ভাণ্ডার জব্দ করার দাবি করে। স্থানীয় গোয়েন্দা ও গণমাধ্যমের দাবি, আগামী দিনে ইরানে একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ও সশস্ত্র বিদ্রোহে ইন্ধন জোগানোর উদ্দেশ্যেই এই বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র গোপনে ইরানি ভূখণ্ডে পাচার করা হচ্ছিল।
খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মোজতবার ডাক:
ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে বলেন, “শত্রুরা আজ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক— দুই পথেই হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে প্রতিটি ইরানির ঐক্যবদ্ধ থাকা বাধ্যতামূলক।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরান আজও খোমেনির দেখানো বৈপ্লবিক পথ ও আদর্শ অনুসরন করেই এগিয়ে চলেছে। সর্বোচ্চ নেতার স্পষ্ট মত, ইজরায়েল ও আমেরিকা আসলে সাধারণ মানুষের মগজধোলাই করে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে এবং বিভেদ সৃষ্টি করতে সোশ্যাল মিডিয়া ও মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র ব্যবহার করছে, যা রুখতে তেহরান প্রশাসন এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে।