অমরনাথ যাত্রীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ! পর পর ২ বছর বন্ধ এই পরিষেবা, চারধামের ভিড়ে ভাঙল সব রেকর্ড!

এই বছরও বাবা বরফানির দর্শনের অপেক্ষায় থাকা অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের জন্য এক অত্যন্ত হতাশাজনক খবর সামনে এসেছে। কড়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসন টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অমরনাথ যাত্রায় সমস্ত ধরণের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার চলাচলের অনুমতি বাতিল করেছে। প্রশাসনের এই কঠিন সিদ্ধান্তে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বড়সড় স্বস্তি পেলেও, বয়োবৃদ্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এমন পুণ্যার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে যখন এই কড়াকড়ি চলছে, তখন উত্তরাখণ্ডে চলমান চারধাম যাত্রায় ভক্তির জোয়ারে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিশেষ করে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধামে বাবা দর্শনের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, কঠিন পথেই ভরসা তীর্থযাত্রীদের
শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, অমরনাথের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশলগত মুভমেন্ট এবং আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই এই বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা ছিল, নিয়মিত বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার চলাচল করলে মূল নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারত।

হেলিকপ্টার পরিষেবা সম্পূর্ণ স্থগিত হওয়ায়, এবারও তীর্থযাত্রীদের পহেলগাম ও বালতালের অত্যন্ত খাড়া ও দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে, ঘোড়ার পিঠে চড়ে কিংবা পালকির সাহায্যে অতিক্রম করতে হবে। তবে পুণ্যার্থীদের এই কষ্টের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, গোটা যাত্রাপথে চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং আপৎকালীন জরুরি পরিষেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। পুরো যাত্রাপথ ও বেস ক্যাম্পগুলো ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

কেদারনাথ-বদ্রীনাথে রেকর্ড ভাঙা ভিড়, পুণ্যার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষ পার!
একদিকে যখন অমরনাথ যাত্রা কিছুটা কষ্টসাধ্য রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ তীর্থস্থানে ভক্তদের সমাগম সমস্ত পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরশুমে এখন পর্যন্ত বাবা কেদারের পবিত্র ধামে ১০,৫০,৬৭০ জন (১০.৫ লক্ষেরও বেশি) ভক্ত হাজির হয়ে পুজো দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভগবান বদ্রি বিশালের দর্শন পেতে বদ্রীনাথ তীর্থস্থানে পৌঁছেছেন প্রায় ৮,৩২,৯০৩ জন পুণ্যার্থী। অর্থাৎ, দুই ধাম মিলিয়ে ইতিমধ্যে ১৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেবদর্শনে অংশ নিয়েছেন। ভোররাত থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পবিত্র ধামেই মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী।