ডলারের ধাক্কায় কাঁপছে ভারতের বাজার! ধস রুখতে বিদেশি ধনকুবেরদের জন্য বিরাট উপহার দিচ্ছে মোদী সরকার?

ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহারের হিড়িক এবং ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন রুখতে এবার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদী সরকার। ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফেরাতে এবং বাজারকে স্থিতিশীল করতে এবার করের নিয়মে বড়সড় ছাড় দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

একটি প্রথম সারির জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কর বিধি সহজ করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্সের সুপারিশ করেছে।

রেকর্ড ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকা উধাও! সংকটে ভারতীয় রুপি
চলতি বছরের শুরু থেকেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত জানুয়ারি মাস থেকে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় বাজার থেকে রেকর্ড ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই ব্যাপক মূলধন বহির্গমনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের মুদ্রার ওপর। ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির মূল্য প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে রুপির ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং বাজারে ডলারের জোগান বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) যৌথভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে।

সরকারি বন্ডে মিলতে পারে ১০০% কর ছাড়!
বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সরকার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) জন্য ভারতীয় সরকারি বন্ডে (G-Secs) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কর ছাড় দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বর্তমানে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারি বন্ড থেকে অর্জিত সুদের আয়ের ওপর ২০% হারে মোটা অঙ্কের উৎস কর (TDS) দিতে হয়, যা আগে ছিল মাত্র ৫%। করের হার একধাক্কায় এতটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি সংস্থাগুলি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল। এবার সেই ২০% কর সম্পূর্ণ মকুব করে বিনিয়োগকারীদের বড়সড় স্বস্তি দিতে পারে সরকার। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে ভারতে বিদেশি ডলারের বিনিয়োগ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে।

বাজেটের আগেই কর হ্রাসের জন্য জোরালো চাপ
আসন্ন বাজেটের আগেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত সরকারের কাছে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (মূলধনী লাভ কর) এবং সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বিধি পর্যালোচনার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক বছরে অতিরিক্ত করের বোঝার কারণে বিশ্বমঞ্চে ভারত বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিল।

অর্থনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি যদি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা চাঙ্গা বাজারে নতুন করে বিদেশি জোয়ার আনবে। আগামী মনিটারি পলিসি কমিটির (MPC) বৈঠকের পর এই বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকেও কিছু বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।