মেয়ের নাম ‘বরকত’ রাখায় ধেয়ে এল কটাক্ষ, “আপনি তো হিন্দু, তবে মুসলিম নাম কেন?” মোক্ষম জবাব দিলেন ডাক্তার মা!

আজকালকার সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেখানে প্রতিনিয়ত ধর্ম ও জাতপাত নিয়ে নানা বিতর্ক দানা বাঁধে, ঠিক তখনই এক হিন্দু দম্পতির চিন্তাচেতনা এবং উদারতা আপামর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মন ছুঁয়ে গেছে। নিজের মেয়ের নাম একটি উর্দু বা ইসলামিক শব্দ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখায় সমাজ থেকে শুরু করে খোদ নিজের পরিবারেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল এক মাকে। কিন্তু সেই সমস্ত রক্ষণশীল প্রশ্নের যে হৃদয়স্পর্শী উত্তর তিনি দিয়েছেন, তা এখন নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করতেই শুরু ট্রোলিং!
ঘটনাটি ডা. ববিতা (@gynaecologist_drbabita) নামের একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকোলজিস্টের। সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে তাঁর স্বামী ভরত এবং ছোট্ট কন্যাসন্তানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত মিষ্টি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেন। কিন্তু ছবির চেয়েও বেশি মানুষের নজর কেড়েছে সেই পোস্টের ক্যাপশন। ডা. ববিতা খোলাখুলি জানান, যখন তিনি তাঁর মেয়ের নাম ‘বারাকাত’ বা ‘বরকত’ রাখেন, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “এটা তো একটা মুসলিম নাম, তাহলে একজন হিন্দু হয়েও আপনি এই নামটা কেন রাখলেন?” এমনকি মেয়েটির দাদুও (ববিতার শ্বশুরমশাই) শুরুতে এই নাম নিয়ে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন।

ধর্মের সীমানা ভাঙল মায়ের এক অনবদ্য উত্তর
সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে ডা. ববিতা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “’বরকত’ আমাদের কাছে কোনো ধর্মের তকমা নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আশীর্বাদ। এই শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো প্রাচুর্য, সমৃদ্ধি এবং সাফল্য।” তিনি আরও খোলসা করেন যে, তাঁর স্বামী ভরত মেয়ের জন্মের অনেক আগেই এই সুন্দর নামটি ভেবে রেখেছিলেন। আজ যখন সেই একরত্তি মেয়েটি খিলখিল করে হাসে বা মিষ্টি দুষ্টুমি করে, তখন তার দাদুও বুঝতে পারেন কেন তার নাম বরকত রাখা হয়েছে। এখন তিনিও তাঁর নাতনির মধ্যে গোটা পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি বা ‘বরকত’ দেখতে পান।

আমাদের বহুত্ববাদী ভারতীয় সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করে এই চিকিৎসক মা লিখেছেন, “এটাই তো আমাদের ভারতবর্ষের আসল সৌন্দর্য, যেখানে সুন্দর শব্দ এবং নাম কোনো কাটাতার বা ধর্মের সীমানা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে না।” তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরও যোগ করেন, “এখন যখনই কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী আমাদের বাড়িতে এসে আশীর্বাদ করে বলেন, ‘ঈশ্বর আপনার গৃহের মঙ্গল (বরকত) করুন,’ তখন আমাদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটে। কারণ আজ মানুষ আমাদের গৃহের জন্য যে সমৃদ্ধির প্রার্থনা করছেন, তা তো সেই দিনই সশরীরে আমাদের ঘরে চলে এসেছিল, যেদিন আমাদের এই কন্যাসন্তান জন্ম নিয়েছিল।”

নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন দম্পতি
ডা. ববিতার এই পোস্টটি সামনে আসতেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। বাবা-মায়ের এমন প্রগতিশীল ও চিন্তাশীল মানসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “কিছু নাম শুধু ডাকার জন্য নয়, সেগুলো আসলে ভালোবাসা ও সুন্দরের প্রকাশ।” অন্য একজন লিখেছেন, “কিছু মানুষ সংকীর্ণ মানসিকতার জন্য এটাকে মুসলিম নাম ভাবতে পারে, কিন্তু আপনার এই পোস্টটি আমাদের শেখাল যে সুন্দর অনুভূতি বা শব্দকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের তকমা দিয়ে খাঁচায় বন্দি করা যায় না।” সব মিলিয়ে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উদারতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে এই ভাইরাল পোস্ট।