মমতার ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত’ থেকে এখন বিরোধী দলনেতা! কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আলোচিত নাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ‘বিশ্বস্ত’ এই নেতা এখন তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের মুখ। ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নেওয়া ঋতব্রত বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী ও বিতর্কিত চরিত্র। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কে এই ঋতব্রত এবং তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ।

ছাত্রনেতা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ
কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুল ও আশুতোষ কলেজের ছাত্র ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির শুরুটা ছিল বামপন্থার হাত ধরে। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি সিপিআই(এম)-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সীতারাম ইয়েচুরির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত দ্রুত সিপিএমের অন্দরে উত্থান ঘটান। ২০১৪ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন। তবে দলের আদর্শের সঙ্গে তাঁর জীবনশৈলীর অমিল এবং বিতর্কিত কার্যকলাপের জেরে ২০১৭ সালে তাঁকে সিপিএম থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তৃণমূলে যোগদান ও নতুন ইনিংস
২০১৮ সালে ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সে সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রকৃত বামপন্থী নেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তৃণমূলে যোগ দিয়েই তিনি দলের ট্রেড ইউনিয়ন শাখার প্রধানের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালে জওহর সরকারের পদত্যাগের পর রাজ্যসভায় মনোনয়ন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক ওজন বহুগুণ বাড়িয়ে নেন।

বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট: কেন এই সংঘাত?
সাম্প্রতিক সময়ে ঋতব্রতর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য। ঋতব্রত স্পষ্ট করেছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ে তাঁর ঘোর আপত্তি রয়েছে।

১ জুন তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে ও সন্দীপন সাহাকে ‘দলবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে বহিষ্কার করে। এরপরই তিনি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের দাবি পেশ করেন, যা স্পিকার কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

অভিযোগ ও বিতর্ক
নিজের রাজনৈতিক জীবনে ঋতব্রত বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছেন। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল, যার পালটা হিসেবে তিনি ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছিলেন ওই মহিলার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দিল্লির সঙ্গে যোগসূত্রের যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।