ঘাম ও গরমে ডিহাইড্রেশন? বাড়িতেই তৈরি করুন জাদুকরী ওআরএস (ORS), জেনে নিন পদ্ধতি

গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বেরিয়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে ডায়েরিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন)-এর পরামর্শ দেন। কিন্তু বাড়িতে সব সময় প্যাকেটজাত ওআরএস না-ও থাকতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে একদম ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিরাপদ ও কার্যকর ওআরএস তৈরি করা সম্ভব।

কেন ওআরএস খাবেন?
ওআরএস কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি জোগায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

বাড়িতে যেভাবে তৈরি করবেন:
মাত্র তিনটি উপাদানের সঠিক মিশ্রণেই তৈরি হয়ে যাবে জীবনদায়ী এই পানীয়।

উপকরণ: ১ লিটার জল (অবশ্যই ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে), ৬ চা চামচ চিনি এবং ১/২ (অর্ধেক) চা চামচ লবণ।

পদ্ধতি: প্রথমে জল ফুটিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা করে নিন। এরপর তাতে চিনি ও লবণ যোগ করে খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করুন, যাতে মিশ্রণটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়ে যায়। আপনার ওআরএস তৈরি!

সতর্কতা ও নিয়মাবলী:
বাড়িতে ওআরএস তৈরির সময় অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

সঠিক পরিমাপ: লবণ ও চিনির অনুপাতে ভুল করা যাবে না। অতিরিক্ত নুন বা চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা: সবসময় পরিষ্কার ফোটানো জল ব্যবহার করুন এবং যে পাত্রে মিশ্রণটি রাখবেন সেটিও যেন পরিষ্কার থাকে।

সংরক্ষণ: এই মিশ্রণটি ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না। প্রয়োজনে পরের দিন আবার নতুন করে বানিয়ে নিন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: রোগী যদি বারবার বমি করেন, জ্ঞান হারান, অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন বা ডায়ারিয়া গুরুতর আকার ধারণ করে, তবে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে ছোট শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়া একেবারেই উচিত নয়।