“নূন্যতম মাইনে কি ৭২ হাজার”-৮ম বেতন কমিশনের প্রতীক্ষায় সরকারি কর্মীরা!

দেশজুড়ে প্রায় এক কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন অষ্টম বেতন কমিশনের দিকে। মুদ্রাস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবি জোরদার হচ্ছে। এই আবহে ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO)-এর মতো বড় সংগঠনগুলো ৩ থেকে ৩.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়ে ন্যাশনাল কাউন্সিলের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে বিতর্ক কেন? সহজ কথায়, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো এমন একটি গুণক, যার মাধ্যমে মূল বেতনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এটি ছিল ২.৫৭, যার ফলে ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬,০০০ টাকা হয়েছিল। কর্মচারীদের দাবি, গত দশ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৫৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে, তাই ২.৫৭ ফ্যাক্টর এখন আর যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি অনুযায়ী ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.০ থেকে ৪.০ পর্যন্ত হওয়া উচিত।
বিভিন্ন সংগঠনের দাবি:
-
BPMS: ৪.০ ফ্যাক্টর (ন্যূনতম বেতন ৭২,০০০ টাকা)।
-
NCJCM ও AIDEF: ৩.৮৩৩ ফ্যাক্টর (ন্যূনতম বেতন প্রায় ৬৯,০০০ টাকা)।
-
FNPO ও AITUC: অন্তত ৩.০ ফ্যাক্টর।
বিশেষজ্ঞদের মত ও সরকারি কোষাগার আর্থিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, সরকার জনকল্যাণমুখী চাহিদা এবং সরকারি কোষাগারের চাপের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করবে। তাদের অনুমান, অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৮ থেকে ২.৮৬-এর মধ্যে হতে পারে। যদি ২.৮৬ ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তবে ন্যূনতম মূল বেতন বেড়ে ৫১,৪৮০ টাকা হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রাখলে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কমিশন স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময়সীমা ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই মাসে ভুবনেশ্বর ও কলকাতায় বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সাথে বেতন ও পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করবে কমিশন।
এখন দেখার বিষয়, ইউনিয়নগুলোর প্রত্যাশা পূরণ হয় নাকি সরকার ভারসাম্য বজায় রেখে মাঝামাঝি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্তের ওপরই আগামী দশ বছরের জন্য দেশের লক্ষ লক্ষ কর্মীর আর্থিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।