সীমান্ত বিরোধে বড় মোড়! নয়া দিল্লির সঙ্গে আলোচনার টেবিলে নেপাল, প্রস্তাব চেয়েছে ভারত

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে অবশেষে গঠনমূলক আলোচনার পথে হাঁটছে ভারত ও নেপাল। নেপালের শাসক দলের সভাপতি রবি লমিছানের সফল দিল্লি সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই, সীমান্ত সমস্যা মেটাতে কাঠমান্ডুর কাছে নির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছে ভারত। এই জটিল সমীকরণের মধ্যেই শনিবার (৬ জুন) তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লি আসছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
আলোচনার মূল ভিত্তি:
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান হলো, ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত ৯৮ শতাংশ সমস্যার ইতিমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে। বাকি সামান্য অংশ, যা মূলত গন্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে তৈরি হয়েছে, তা দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারত ও নেপালের এই দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
নেপালের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা:
সরাসরি আলোচনা: রবি লমিছানের দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করেছে।
প্রস্তাবের প্রস্তুতি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল নিজের আসন্ন সফরে সীমান্ত সমস্যা সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ভারতের কাছে পেশ করতে পারেন বলে খবর। নেপালের সাংসদ দীপক বোহরা জানিয়েছেন, ভারত সীমান্ত বিরোধ নিরসনে একটি প্রস্তাব চেয়েছিল, যা এখন যৌথ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
তৃতীয় পক্ষের প্রবেশে বাধা: প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ সীমান্ত বিষয়ে ব্রিটেন ও চীনের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও, ব্রিটেন দ্রুত এই বিতর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। ভারতও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, তৃতীয় কোনো দেশের প্রবেশের সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য—যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন নেপালও ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে আছে—তা নিয়ে কাঠমান্ডুর অন্দরেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সরকারি মুখপাত্র এবং বিদেশ মন্ত্রক তাঁর এই মন্তব্যের ব্যাখ্যাকে ‘ভুল’ বলে খারিজ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে নেপালের বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbours First) নীতি বজায় রেখেই সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে আগ্রহী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের এই নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা দূর করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের প্রভাবকে আরও সুদৃঢ় করবে। এখন নজর থাকবে শিশির খানালের দিল্লি সফরের দিকে, যেখানে সীমান্ত সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানের নীলকশায় সিলমোহর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।