বাতিল হচ্ছে তাজপুর বন্দর প্রজেক্ট? নবান্ন থেকে বড় তোলপাড় ফেলা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর!

পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে কি আদেও গড়ে উঠবে প্রস্তাবিত সমুদ্র বন্দর? রাজ্য রাজনীতির এই দীর্ঘদিনের বহুচর্চিত ও হেভিওয়েট প্রকল্প নিয়ে এবার এক বিরাট ও চূড়ান্ত আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই বন্দর তৈরির ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবে তা রূপ পায়নি। এবার নতুন সরকারের শাসনকালে নবান্ন থেকে তাজপুর বন্দর প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্ন আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে রাজ্য সরকারের শিপিং ডিপার্টমেন্ট ও জলপথ দফতরের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মেগা বৈঠকে পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, শিল্প দফতর, পরিবহন দফতর থেকে শুরু করে কলকাতা পুরনিগমের সমস্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তাজপুর বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাজপুর সি-পোর্ট প্রজেক্টটি নিয়ে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেছি। এই বিষয়ে আদানি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির সঙ্গেও আমাদের সরকারের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওঁদের প্রতিনিধি দল তাজপুর এলাকা পরিদর্শন বা ভিজিট করে গিয়েছেন।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও মনে করিয়ে দেন, “আমি যখন বিরোধী দলনেতা ছিলাম, তখনও বারবার বলে এসেছি যে— উন্নত রেলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশাল ওয়ারহাউস এবং তার সঙ্গে অন্তত কয়েক হাজার একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করা না হলে তাজপুরে সমুদ্র বন্দর তৈরি করা প্রযুক্তিগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। আমাদের নতুন সরকারও সবদিক মূল্যায়ন করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই নির্দিষ্ট জমিতে বন্দর তৈরি করা সম্ভব নয়।”
তবে তাজপুর প্রজেক্টে ধাক্কা লাগলেও রাজ্যের সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই আশাহত হতে বারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ হিসেবে তিনি এক নতুন মহাপরিকল্পনার কথা সামনে এনেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘দাদনপত্রবাড়ে’ একটি আন্তর্জাতিক মানের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছে নতুন সরকার।
তিনি আশার আলো দেখিয়ে বলেন, “দাদনপত্রবাড়ে যেখানে আগে নুনের কারখানা ছিল, সেখানে বর্তমানে সরকারের হাতে নিজস্ব প্রায় ১৭০০ একর জমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। কোনো নতুন জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ছাড়াই এই সরকারি জমিকে কেন্দ্র করে এবার বাস্তবসম্মতভাবে এগোবে রাজ্য সরকার।” স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর তাজপুর নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটলেও, দাদনপত্রবাড়ে নতুন বন্দর তৈরির সম্ভাবনা ঘিরে বাংলার শিল্পমহলে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।