জ্বালানি খাতে নতুন যুগ! ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি আনল মারুতি সুজুকি

ভারতের অটোমোবাইল শিল্প এবং জ্বালানি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এল মারুতি সুজুকি। বৃহস্পতিবার সংস্থার তরফে ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল চালিত যাত্রীবাহী গাড়ি উন্মোচন করা হলো। এই উদ্যোগটি দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন অধ্যায়ের সূচনা:
উন্মোচন অনুষ্ঠানে মারুতি সুজুকির এমডি ও সিইও হিশাশি তাকেউচি বলেন, “ফ্লেক্স-ফুয়েল ওয়াগন আর (Wagon R) শুধু একটি গাড়ি নয়, এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।” অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী উপস্থিত ছিলেন, যা এই প্রকল্পটির সরকারি গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

কেন এই ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ?

১০০% ইথানল সক্ষমতা: এটি দেশের প্রথম যাত্রীবাহী মডেল যা ১০০% ইথানলে চলার ক্ষমতা রাখে।

বিদেশি তেলের নির্ভরতা হ্রাস: অপরিশোধিত তেলের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে এই পদক্ষেপটি সরাসরি যুক্ত।

পরিবেশ বান্ধব: ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বায়ুদূষণ রোধে বিশেষ সহায়ক।

সরকারের নীতি ও ইথানল মিশ্রণ:
কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা এই উদ্ভাবনের পথকে আরও প্রশস্ত করেছে। সম্প্রতি সরকার E22, E25, E27 এবং E30-এর মতো উচ্চ-ইথানল মিশ্রণের পেট্রোলের জন্য যে নিয়ম জারি করেছে, তা ভারতে জ্বালানি প্রযুক্তির আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। মারুতি সুজুকির এই নতুন মডেল সেই লক্ষ্যেই এক বড় পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, কারণ আখ ও অন্যান্য শস্য থেকে ইথানল উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি কৃষি-ভিত্তিক। ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির এই সংযোজন ভারতের ভবিষ্যতের সবুজ যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।