তৃণমূল ভাঙচুর! মমতার হাত থেকে ফসকে গেল পরিষদীয় দল? বিরোধী দলনেতা হলেন বহিষ্কৃত ঋতব্রত

বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার মাত্র এক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র ও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সমীকরণ কার্যত আমূল বদলে গেছে। এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য ঘাসফুল শিবির বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং নজিরবিহীন বিদ্রোহের জেরে দল এখন দ্বিধাবিভক্ত।
বিধানসভায় বিদ্রোহের আগুন:
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিধানসভায় নতুন অবস্থান নিয়েছেন। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। তৃণমূলের এই বিশাল সংখ্যক বিধায়কের বিদ্রোহ রাজ্য রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিল।
জোড়াফুল ও সাংগঠনিক অস্তিত্বের লড়াই:
তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভাঙনের ফলে দলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মহারাষ্ট্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বাংলায়। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী গোষ্ঠী—এই দুই শিবিরের মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচয়ের লড়াই এখন সময়ের অপেক্ষা।
তহবিল নিয়ে টানাপোড়েন:
দলীয় সংঘাতের পাশাপাশি দলের বিশাল আর্থিক তহবিল (Party Fund) নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। সূত্রের খবর, দুর্দিনের এই সময়ে দলের শীর্ষস্তরের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চরম অসন্তুষ্ট। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ এক নেতার আক্ষেপ, “সুদিনে সবাই পাশে থাকে, কিন্তু দুর্দিনের পরীক্ষায় অনেকেই উত্তীর্ণ হতে পারবে না।” সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই এখন তৃণমূলের অন্দরে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা।
তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নবান্নের:
পরিস্থিতি সামলাতে বুধবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ও শাখা সংগঠনগুলিকে অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের আটকাতে এবং দলের কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সংকটের মুখেও দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, অধিকাংশ বিধায়ক এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন। কিন্তু বিধানসভার বর্তমান ঘটনাক্রম বলছে, তৃণমূলের এই ‘১৩ দিনের ঝড়ে’ দলের সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।