“এক বছর পর আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না মোদী!” রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তোলপাড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার আদিবাসী কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদী আর এক বছর পর প্রধানমন্ত্রী পদে নাও থাকতে পারেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে, যা মোদী সরকারের আসন্ন পতনকে ত্বরান্বিত করবে।

রাহুলের নিশানায় ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ’:
রাহুল গান্ধীর কথায়, যে ব্যবস্থা একসময় প্রধানমন্ত্রীর মুঠোয় ছিল, তা এখন নড়বড়ে। তিনি দাবি করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে থাকা মানুষেরাই এখন বিরোধীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করছেন। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাহুলের দাবি, মোদী সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখন আর আগের মতো নেই।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও পেপার ফাঁস নিয়ে তীব্র আক্রমণ:
সম্প্রতি NEET-UG ২০২৬ এবং CBSE অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) বিতর্ক নিয়ে এমনিতেই কোণঠাসা কেন্দ্র। এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিশানা করেন। শিক্ষা মন্ত্রককে ‘বিপর্যয়ের বিভাগ’ আখ্যা দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, বারবার পেপার ফাঁস এবং এই ধরনের চরম অব্যবস্থাপনার পরও শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে পদে বহাল থাকেন? NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের ফলে ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।

অর্থনৈতিক সংকট ও জনরোষের সতর্কতা:
রাহুল গান্ধী সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট বড় ধরনের বিপদের ইঙ্গিত। তাঁর আশঙ্কা, এই জনরোষ সামলাতে সরকার ভবিষ্যতে জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে। ২০২৪ সালে এনডিএ জোটের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণকে অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের প্রতিক্রিয়া:
যদিও এই অভিযোগের বিপরীতে কেন্দ্র দাবি করেছে যে, NEET-UG-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন এবং পুরো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেরও নজরে রয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধীর এই ভবিষ্যদ্বাণী জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।