ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আঁচ! মাঝ আকাশে দীর্ঘক্ষণ চক্কর কাটল দিল্লি-কুয়েত বিমান, আতঙ্কিত যাত্রীরা

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমশ অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার মাঝে মাঝ আকাশে থমকে রইল দিল্লি থেকে কুয়েতগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে দীর্ঘক্ষণ পারস্য উপসাগরের ওপর ‘হোল্ডিং প্যাটার্ন’-এ চক্কর কাটতে দেখা যায় বিমানটিকে।
ঠিক কী ঘটেছে?
নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ বর্তমানে তাদের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। কুয়েতের আকাশপথেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, গন্তব্য বিমানবন্দরে সমস্যা বা আকাশসীমার ওপর বিধিনিষেধ জারি থাকলে বিমানকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট উচ্চতায় চক্কর কাটতে হয়। দিল্লি-কুয়েত উড়ানটির ক্ষেত্রেও সম্ভবত সেই নির্দেশই পালন করতে হয়েছে পাইলটদের। যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়েই এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন বিমান সংস্থাগুলি। এতে অনেক ক্ষেত্রে উড়ানের সময় ও জ্বালানি খরচ—উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রভাবিত হচ্ছে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক উড়ান
শুধু এই একটি বিমান নয়, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ভারত থেকে পশ্চিমমুখী একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বিত, বাতিল কিংবা অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর মতো সংস্থার পরিষেবাগুলো এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিষেবায় বারবার বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট বিমানগুলিকে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে যাত্রীদের বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে:
বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে অবশ্যই উড়ানের সর্বশেষ স্ট্যাটাস বা অবস্থান যাচাই করে নিন।
এয়ারলাইন্সের অফিশিয়াল নোটিফিকেশন বা ওয়েবসাইটের আপডেটের দিকে নজর রাখুন।
পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত যে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে, দিল্লি-কুয়েত উড়ানের এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।