কেদারনাথ ভ্রমণে যাওয়ার আগে অবশ্যই পড়ুন! ‘দেবভূমি’ বাঁচাতে আপনার জন্য বড় নির্দেশিকা

১১,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত বাবা কেদারের তোরণ—ভক্তদের কাছে এটি কেবল একটি তীর্থস্থান নয়, এক পরম পাওয়া। কিন্তু এই আধ্যাত্মিক ভ্রমণের আড়ালে পাহাড়ের বুকে জমে উঠছে টন টন প্লাস্টিক ও শুকনো বর্জ্যের পাহাড়। আরটিআই (RTI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেদারনাথে ২১.৪ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন এখন বাধ্য হয়ে চালু করেছে ‘ক্যারি মি ব্যাক’ (Carry Me Back) নীতি।

কী এই ‘ক্যারি মি ব্যাক’ নীতি?
এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো হিমালয়ের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা। নিয়মটি অত্যন্ত সহজ: আপনি পাহাড়ের ওপরে যে শুকনো বর্জ্য নিয়ে যাচ্ছেন (প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা টফির মোড়ক), তা ব্যবহারের পর নিচে নামার সময় গৌরিকুণ্ডে ফিরিয়ে আনতে হবে।

কীভাবে কাজ করবে? নগর পঞ্চায়েত তীর্থযাত্রীদের ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ধারণক্ষমতার দুটি ব্যাগ দেবে। আপনাকে কেবল সেই ব্যাগগুলো আপনার বর্জ্য দিয়ে ভর্তি করে গৌরিকুণ্ডে জমা দিতে হবে। সেখান থেকে স্বজল বিভাগ ও সুলভ ইন্টারন্যাশনালের বিজ্ঞানীরা পরিবেশসম্মত উপায়ে তা নিষ্কাশন করবেন।

কেন হিমালয় আজ বিপন্ন?
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৫৮৪ মিটার উচ্চতায় আবর্জনা সংগ্রহ বা পৃথকীকরণ সমতলের মতো সহজ নয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কেদারনাথ অঞ্চলে ৭২ টনেরও বেশি বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ অপচনশীল প্লাস্টিক। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে ‘দেবভূমি’ আজ বর্জ্যের ভারে জর্জরিত।

আপনার ছোট পদক্ষেপ, পাহাড়ের বড় বাঁচা:
যদি প্রত্যেক তীর্থযাত্রী দায়িত্ব নিয়ে মাত্র এক কিলোগ্রাম শুকনো বর্জ্যও নিচে ফিরিয়ে আনেন, তবে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কিলোগ্রাম আবর্জনা পাহাড় থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। এটি কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, একজন ভক্ত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আপনার তীর্থযাত্রার পূর্ণতা পেতে পাহাড়ের পবিত্রতা রক্ষা করাটাও বাঞ্ছনীয়। তাই এবারের কেদারনাথ ভ্রমণে শুধু স্মৃতি নয়, সাথে নিয়ে আসুন আপনার নিজের ব্যবহৃত বর্জ্য। আসুন, ‘দেবভূমি’কে প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে হাত মিলিয়ে লড়াই করি।