চীনের বড় ধাক্কা! পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কেনার স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে?

ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত সেই প্রতিবেশী দেশটির সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এবার বড়সড় ধাক্কা। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের চরম আর্থিক অনটনের কারণে চীন তাদের অবশিষ্ট ১৬টি জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমানের সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি?
৩৬টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছিল পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, ২০টি বিমান ইতিমধ্যে পাকিস্তান হাতে পেলেও, বাকি ১৬টির জন্য প্রয়োজনীয় কিস্তি সময়মতো মেটাতে পারেনি ইসলামাবাদ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তলানিতে ঠেকে যাওয়া, ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ এবং আইএমএফ (IMF)-এর কঠোর শর্তের মুখে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান চীনের অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলস্বরূপ, বেইজিং সাফ জানিয়ে দিয়েছে, টাকা না পেলে আর কোনো বিমান সরবরাহ করা হবে না।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা ধাক্কা খেল
ভারতীয় বিমানবাহিনীর রাফাল বহরের মোকাবিলায় জে-১০সিই-কে পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখা হতো। ৪.৫ প্রজন্মের এই বিমানগুলো এআইএসএ (AESA) রাডার এবং দূরপাল্লার পিএল-১৫ (PL-15) ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এই স্কোয়াড্রনগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় মোতায়েন করার লক্ষ্য নিয়েছিল পাকিস্তান বিমান বাহিনী। কিন্তু চীনের এই সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নতুন প্রশ্নের মুখে জে-৩৫ কেনার ভবিষ্যৎ
শুধু জে-১০সিই-ই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের চীনের পঞ্চম প্রজন্মের ‘জে-৩৫’ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি নিয়েও বেশ জল্পনা চলছিল। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে পুরনো কিস্তি মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে নতুন এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্টেলথ বিমান কেনার আর্থিক সক্ষমতা পাকিস্তান কীভাবে তৈরি করবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের এই বিমান সরবরাহ বিলম্বিত হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ চীনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।