“দলীয় কার্যালয় থেকে চলবে না বদলি!” ডাক্তারদের কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

“এই সরকার কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য নয়, এই সরকার পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষের।” শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করতে গিয়ে রাজ্য সরকারের কর্মপদ্ধতি নিয়ে এমনই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

ডাক্তারদের বদলিতে ‘দলীয় হস্তক্ষেপ’ বন্ধের নির্দেশ
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে শমীক ভট্টাচার্য এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই সরকারকে কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ করবে না। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে চিকিৎসকদের বদলির নির্দেশ আসবে না। সরকার চলবে সরকারের নিজস্ব নিয়মে।” পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনো বিচ্যুতি বা সমস্যার সম্মুখীন হলে সাধারণ মানুষকে সরাসরি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি
এদিন রাজ্যের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শমীক। তিনি বলেন, “জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি।” অতীতে পোলিও বা লাইগেশন কর্মসূচি চলাকালীন যে ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

শুরু হলো HPV টিকাকরণ কর্মসূচি
রাজ্য জুড়ে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

বিস্তৃতি: রাজ্যের ২৩৫টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি চলবে।

সুবিধা: আগামী তিন মাস ধরে সাড়ে সাত লাখ কিশোরীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে।

রেজিস্ট্রেশন: টিকা নেওয়ার জন্য ‘U-WIN’ অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া অভিভাবকের ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন।

ডোজেস: চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ডোজের ৬ মাস পর দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হবে।

সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে এই টিকা নেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী তিন মাস ধরে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha