ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জের! এলপিজি মজুত নিয়ে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের, আতঙ্কে দেশবাসী?

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। ইরান-আমেরিকা সংঘাত কবে থামবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি (LPG) মজুত বা রিজার্ভ তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সতর্কতা?
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ, প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ এবং এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সংগ্রহ করে। ইরান সংকট শুরু হওয়ার পর ভারত বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও, এলপিজি আমদানিতে কিছুটা বাধা তৈরি হয়েছে। এই কারণেই বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।
কী জানাল কেন্দ্র?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা শুক্রবার জানান, “আমরা কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) তৈরির বিষয়ে কাজ করছি। ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-কে তাদের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক মজুতের অতিরিক্ত এলপিজি সংরক্ষণ ক্ষমতা গড়ে তুলতে বলা হয়েছে।” সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি মজুত রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। দৈনিক এলপিজি উৎপাদন এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ অর্থাৎ ৫২ হাজার টনে পৌঁছেছে।
কেন পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড়?
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি কেনার হিড়িক দেখা দিয়েছে। ১৫০টিরও বেশি জেলায় পেট্রোল বিক্রি ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সুজাতা শর্মা বলেন, “কৃষিক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি এবং দামের পার্থক্যের কারণে মানুষ পাম্পমুখী হচ্ছেন। তবে দেশের কোথাও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো খবর নেই।”
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর খুচরো পাম্পে জ্বালানির দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কম রাখা হয়েছে, যে কারণে বেসরকারি সংস্থার পাম্প থেকে বিক্রি কমেছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পাম্পে বিক্রি বেড়েছে। ১৫ মে থেকে এই সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ৭.৫০ টাকা বাড়িয়েছে।
কালোবাজারি রুখতে কঠোর বার্তা
জ্বালানি মজুতদারি ও কালোবাজারি ঠেকাতে কেন্দ্র রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ‘স্পেশাল এনফোর্সমেন্ট স্কোয়াড’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় মজুত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। সরকার স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই জ্বালানি কেনা উচিত।