১০০০ টাকার ওষুধ মাত্র ১০০ টাকায়! সরকারি হাসপাতালে বড় পরিষেবার প্রতিশ্রুতি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে HPV টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ন্যাশনাল হেলথ মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আমূল বদলে ফেলার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
HPV টিকাকরণ কর্মসূচি:
১৪ বছরোর্ধ্ব কিশোরীদের সার্ভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের এই টিকাকরণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সহযোগিতায় রাজ্য ৭ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৫০টি ভ্যাকসিনের ডোজ পেয়েছে, যা ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে কিশোরীদের দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হলেও, আজ থেকে তা রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা:
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের রেফার সমস্যা দূর করতে ও উন্নত পরিষেবার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু কড়া ও সদর্থক নির্দেশ দিয়েছেন:
রেফার সমস্যা দূরীকরণ: রেফার সমস্যা কমাতে রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি নতুন বেড চালু করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালে গরিবের চিকিৎসা: যেসব বেসরকারি হাসপাতাল সরকারের থেকে ১ টাকার বিনিময়ে জমি পেয়েছে, তাদের মোট বেডের ১৫ শতাংশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে এই হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঔষধি কেন্দ্র ও ভর্তুকি: রাজ্যের ৪৬৭টি জায়গায় ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র’ খোলা হবে। যেখানে ১০০০ টাকার ওষুধ মাত্র ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে। এছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধে ৫০-৮০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার জন্য রাজ্যে ‘অমৃত প্রকল্প’ চালু করা হচ্ছে।
আয়ুষ্মান ভারত ও আয়ুষ্মান মন্দির:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৬ কোটিরও বেশি মানুষকে নিয়ে আসা হচ্ছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত যেকোনো স্বীকৃত হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাবেন পরিযায়ী শ্রমিক থেকে সাধারণ মানুষ। রাজ্যের সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম বদলে এখন থেকে তা পরিচিত হবে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ হিসেবে।
ন্যাশনাল হেলথ মিশনের বাজেট:
রাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (NHM) বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্য হাতে পেয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা মানচিত্রকে আগামী দিনে অনেক বেশি উন্নত ও সচ্ছল করে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য মহল।