জ্বালানির ছ্যাঁকা! চলতি মাসে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ল সিএনজি-র, চাপে পরিবহণ খাত

ফের একবার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড়সড় ধাক্কা। জ্বালানির বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা করল মহানগর গ্যাস লিমিটেড (MGL)। মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলে শনিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে সিএনজি (CNG) ও পিএনজি (PNG)-র বর্ধিত দাম। এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ক্ষেত্র থেকে গৃহস্থালি—সর্বত্রই ব্যয়ের বোঝা বাড়িয়ে তুলেছে।
মূল্যবৃদ্ধির খতিয়ান:
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, পিএনজি-র দাম ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৫২ টাকা এবং সিএনজি-র দাম ২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকায়। মুম্বই, নভি মুম্বই, থানে ও কল্যাণসহ এমএমআর (MMR) অঞ্চলের সমস্ত এলাকাতেই এই নতুন মূল্য প্রযোজ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মে-ও সিএনজি-র দাম ২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় টান ফেলেছে।
কেন বাড়ছে দাম?
মহানগর গ্যাস লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছে:
জোগান সংকট: গৃহস্থালির জন্য বরাদ্দ গ্যাসের পরিমাণ কমে আসায় বাইরে থেকে অধিক দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সংস্থাকে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন গ্যাস আমদানির খরচকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যয়ভার: সংস্থার ক্রমবর্ধমান খরচ মেটাতেই এই মূল্যবৃদ্ধির পথ বেছে নিতে হয়েছে।
ক্ষুব্ধ পরিবহণ ও বাণিজ্যিক মহল
মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকায় অটো, ট্যাক্সি ও বাণিজ্যিক যানবাহনের একটি বিশাল অংশ সিএনজি-র ওপর নির্ভরশীল। লাগাতার জ্বালানির দাম বাড়ায় অটো-ট্যাক্সি চালকদের উপার্জনের লাভের মার্জিন তলানিতে ঠেকেছে। বহু চালক যাত্রীভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছেন, আবার কেউ কেউ লোকসান এড়াতে গাড়ি চালানো কমিয়ে দিচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের পরিষেবার ওপর। পিএনজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলিরও মাসিক রান্নার খরচ বাড়ায় বাজেটে বড়সড় টান পড়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে চারবার জ্বালানি তেলের দাম সংশোধন হওয়ায় পণ্য সরবরাহ ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির এই নিরন্তর মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাজারে লাগামছাড়া হতে পারে।
জ্বালানির বাজারে এই অস্থিরতা কবে কাটবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ আপাতত তাকিয়ে সরকারের কোনো বিশেষ পদক্ষেপ বা বাজার স্থিতিশীল হওয়ার দিকে।