বীরভূমে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ‘সোনার খনি’! নগদ ৫০ লক্ষ ও গয়না উদ্ধারে তোলপাড়

বালি ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও সোনার গয়না মজুত রাখার অভিযোগে তোলপাড় বীরভূমের মহম্মদ বাজার। শুক্রবার গভীর রাতে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং ৫০২ গ্রাম সোনার গয়না। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে চলল অভিযান?
সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পুলিশের একটি বিশেষ দল মহম্মদ বাজারে লগইন শেখের বাড়িতে হানা দেয়। চলে টানা কয়েক ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি। রাত পর্যন্ত চলা এই অভিযানে উদ্ধার হয় ৫০ লক্ষ টাকা এবং ৫০২ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস খুঁজতে ওই ব্যবসায়ীকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।
কারা জড়িয়ে এই কারবারে?
অভিযান চলাকালীন পুলিশ সোহেল শেখ, লবান শেখ এবং সামিম শেখের নাম পায়। জানা যাচ্ছে, ধৃতরা সকলেই বালি ব্যবসার পাশাপাশি একটি রাস্তা তৈরির ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত। ঘটনার জেরে সামিম শেখকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবারই তাকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্যে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি মহলের। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বীরভূমের পাথর শিল্পে কোটি কোটি টাকার ডিআরসি (DCR) কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছিলেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূলের আমলে বীরভূম জেলায় কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হবেন বলেও হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
সামনের দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই বিপুল অর্থের উৎস কী, সেদিকেই তাকিয়ে এখন বীরভূম জেলা।