কর্পোরেটের ইঁদুর দৌড় থেকে মুক্তি! আইটি ম্যানেজার থেকে অটোচালক হয়ে মাসে ৬০ হাজার আয় এই মহিলার

কর্পোরেট অফিসের এসিতে বসে দিন কাটানো আইটি ম্যানেজার—নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্মার্ট পোশাক, ল্যাপটপ আর ব্যস্ততার ছবি। কিন্তু এই পেশা ছেড়ে কেউ যদি রাস্তায় অটো চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, তবে তা অবাক করার মতোই। সম্প্রতি তেমনই এক অসামান্য জীবনের গল্পের সাক্ষী হলো সোশ্যাল মিডিয়া।

কী ঘটেছে?
সম্প্রতি নেজরিন মিধলাজ নামের এক যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলা অটোচালকের ভিডিও শেয়ার করেছেন। অটোয় যাতায়াতের সময় ওই চালকের সাথে কথা বলেই তিনি জানতে পারেন তাঁর পূর্বজীবন। মিধলাজ জানিয়েছেন, যে ভদ্রমহিলা এখন হাসিমুখে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন, তিনি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কর্পোরেট জগতের একজন সফল আইটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন।

কেন এই পরিবর্তন?
উচ্চ বেতনের চাকরিতে কোনো অভাব ছিল না, কিন্তু ছিল না মানসিক শান্তি। ওই মহিলা অটোচালকের কথায়, কর্পোরেট জগতের ক্রমাগত চাপ ও মানসিক উত্তেজনা তাঁকে একপ্রকার বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। সেই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতেই তিনি সবরকম সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে অটো চালানোর মতো কঠোর অথচ স্বাধীন পেশা বেছে নিয়েছেন। এখন তিনি নিজের শর্তে বাঁচছেন।

মাসে ৬০ হাজার আয় ও অসামান্য তৃপ্তি
কেবল মানসিক শান্তিই নয়, আয়ের দিক থেকেও তিনি বেশ ভালো জায়গায় রয়েছেন। ওই মহিলা জানিয়েছেন, অটো চালিয়ে বর্তমানে তিনি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন। তাঁর মতে, সবথেকে বড় বিষয় হলো, তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খুশি। আরামদায়ক চাকরিতে থেকেও যে শান্তি পাওয়া যায় না, তা তিনি এই নতুন পেশায় খুঁজে পেয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড় উঠেছে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভকামনা। আমিও এমন এক সুখী জীবন চাই।” আবার কেউ লিখেছেন, “চাপের মধ্যে বেঁচে থাকার চেয়ে চাপমুক্ত জীবনই শ্রেষ্ঠ।” কর্পোরেট জগতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অনেকেই তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

সম্পাদকীয় মন্তব্য:
সাফল্যের সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। অনেকের কাছে সাফল্য মানে বড় পদ বা মোটা বেতন, কিন্তু এই মহিলা অটোচালকের জীবন প্রমাণ করে—মানসিক স্বস্তি ও নিজের শর্তে বাঁচার আনন্দই জীবনের আসল সার্থকতা। প্রতিপত্তি ত্যাগ করে শান্তিকে বেছে নেওয়ার এই সাহস সত্যিই কুর্নিশ করার মতো।