রেকর্ড পেমেন্ট, স্বচ্ছ ব্যবস্থা! আখ চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়ে নজির গড়লেন যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো আখ ও চিনি শিল্প। আর সেই শিল্পকে চাঙ্গা করতে এবং রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আখ চাষির মুখে হাসি ফোটাতে এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সরকারি তথ্যে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—গত ৯ বছরে রাজ্যের আখ চাষিদের মোট ৩,২২,৭২২ কোটি টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) পৌঁছে দিয়েছে যোগী প্রশাসন। যা এক কথায় নজিরবিহীন।

৯ বছরে রেকর্ড পেমেন্ট:
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫-২৬ মরশুম পর্যন্ত চাষিদের পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করা হয়নি। শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ মরশুমেই ৩০,৮৩১.৮১ কোটি টাকা চাষিদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে দালাল বা ফড়েদের দাপট পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন। বর্তমানে ৯০ শতাংশ চাষি তাঁদের পাওনা বুঝে পেয়েছেন, বাকি মিলগুলিকেও দ্রুত টাকা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা:
চাষিদের হয়রানি কমাতে যোগী সরকার চালু করেছে ‘স্মার্ট আখ চাষি’ সিস্টেম। এখন জমির পরিমাপ থেকে শুরু করে আখের ক্যালেন্ডার বা পার্চি (স্লিপ)—সবটাই ডিজিটাল। ফলে নিজের মোবাইলেই আপডেট পাচ্ছেন কৃষকরা, আর টাকা পৌঁছাচ্ছে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ফলে গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে।

চিনি উৎপাদনেও শীর্ষস্থানে উত্তরপ্রদেশ:
চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যগুলিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এবারের মাড়াই মরশুমে উত্তরপ্রদেশে ১২১টি চিনিকল সক্রিয় রয়েছে। যেখানে চিনি পুনরুদ্ধারের হার (average sugar recovery) দাঁড়িয়েছে ১০.২১ শতাংশে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে চিনিকলের সংখ্যা বেশি (২১০টি) হওয়া সত্ত্বেও, সেখানে এই হার মাত্র ৯.৪৯ শতাংশ। কর্নাটকে তা আরও কমে ৮.১৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দক্ষতায় অন্যান্য রাজ্যকে টেক্কা দিয়ে দেশের সেরা হাব হয়ে উঠছে যোগীর উত্তরপ্রদেশ।

দাম বৃদ্ধি ও ৪৮ লক্ষ পরিবারের সমৃদ্ধি:
আখ চাষিদের অতিরিক্ত লাভের সুযোগ করে দিতে সরকার এই নিয়ে চতুর্থবার আখের দাম বাড়াল। এবার কুইন্টাল প্রতি দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। উন্নত জাতের আখের দাম ৪০০ টাকা এবং সাধারণ জাতের জন্য ৩৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চাষিরা অতিরিক্ত প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা পেয়েছেন। রাজ্যের প্রায় ৪৮ লক্ষ আখ চাষি পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে এই আর্থিক সংস্কারের ফলে।

উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে আখ উন্নয়ন দফতর যে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, তা এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। যোগী সরকারের এই নীতিতে এখন শুধু আখ চাষিদের আর্থিক উন্নতিই হয়নি, বরং রাজ্যের সার্বিক গ্রামীণ অর্থনীতি এক নতুন গতির দিশা পেয়েছে।