অ্যালকোহল নেই মানেই কি স্বাস্থ্যকর? রুট বিয়ারের অন্দরে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর ঝুঁকিগুলো জানুন

প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তি কাটাতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঠান্ডা ঠান্ডা ‘রুট বিয়ার’। গাছগাছড়ার শিকড় ও ভেষজ দিয়ে তৈরি এই কার্বনেটেড পানীয়টি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়। নামে ‘বিয়ার’ থাকলেও এতে কোনো অ্যালকোহল নেই। কিন্তু এটি পান করা কি আদতে স্বাস্থ্যকর? সাম্প্রতিক গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রুট বিয়ার পানের অভ্যাস শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্বক প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন এড়িয়ে চলবেন রুট বিয়ার?

১. ডায়াবেটিস ও ওবেসিটির ঝুঁকি: রুট বিয়ারে স্বাদ বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ‘ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত এই পানীয় পানে শরীরে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস ও স্থূলতার (ওবেসিটি) মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

২. দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি: অতিরিক্ত চিনি দাঁতের এনামেলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। রুট বিয়ারের মিষ্টি উপাদান দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে, ফলে দাঁতের রং পরিবর্তন হয় এবং ধীরে ধীরে দাঁতের স্বাভাবিক জোর বা সক্ষমতা কমতে শুরু করে।

৩. অনিদ্রা ও মানসিক চাপ: এই পানীয়তে থাকা উচ্চমাত্রার ক্যাফিন স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে তোলে, যার ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দেয়। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি: রুট বিয়ারের সেই পরিচিত বাদামি রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় ‘ক্যারামেল কালার’। বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই কৃত্রিম রঙটি থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এছাড়া, ক্যারামেল রঙের প্রভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
গরমের দিনে কৃত্রিম কার্বনেটেড পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত ড্রিংকসের বদলে ডাবের জল, ফলের রস বা ঘরে তৈরি সাধারণ লেবুর সরবত শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। রুট বিয়ারের স্বাদ লোভনীয় হলেও শরীরের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার কথা ভেবে তা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।