শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা! মাত্র এক ত্রৈমাসিকে ১২.৬ লক্ষ কোটি টাকা হারালেন বিনিয়োগকারীরা

ভারতীয় শেয়ার বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)-এর সর্বশেষ ‘মার্কেট প্লাস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে ইক্যুইটি সম্পদে প্রায় ১২.৬ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল হ্রাস ঘটেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি শেয়ার বাজারের অন্যতম অস্থির সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে নিফটি ৫০ সূচক ১০ শতাংশের বেশি পতন রেকর্ড করেছে।
বাজার কেন পতনের পথে?
বিশেষজ্ঞরা এই পতনের পেছনে একাধিক কারণকে দায়ী করছেন:
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: ইরান-সহ বিভিন্ন দেশের চলমান সংঘাত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তেলের দাম ও বিদেশী বিনিয়োগ: অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) ক্রমাগত শেয়ার বিক্রির চাপ বাজারকে চাপে রেখেছে।
বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য: বিশ্বব্যাপী এআই (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিনিয়োগের হিড়িক পড়ায় ভারতের মতো বাজার থেকে মূলধন সরে গিয়ে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় বাজারের দশা:
সম্পদ হ্রাস: মার্চ ২০২৬ শেষে এনএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মোট হোল্ডিং কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬.৫ লক্ষ কোটি টাকায়। এটি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রায় ১৩ শতাংশ কম।
এফপিআই-এর নিষ্ক্রিয়তা: অর্থবছর ২৬-এ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। এনএসই-তে এফপিআই হোল্ডিং ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৫.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিনিয়োগের ধাঁচ বদলাচ্ছে:
বাজারের এই পতনের মধ্যেও একটি ইতিবাচক দিক হলো—দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা।
মিউচুয়াল ফান্ডের রমরমা: এসআইপি (SIP)-র মাধ্যমে ক্রমাগত বিনিয়োগের ফলে মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার রেকর্ড ১১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। টানা ১১টি ত্রৈমাসিক ধরে এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত।
সরাসরি বিনিয়োগে অনাগ্রহ: স্বতন্ত্র বা রিটেইল বিনিয়োগকারীরা সরাসরি শেয়ার কেনার চেয়ে মিউচুয়াল ফান্ড এবং এসআইপি-র মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী এবং পদ্ধতিগত বিনিয়োগকেই বেশি পছন্দ করছেন। তাদের সরাসরি শেয়ার কেনার হার পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ৯.১ শতাংশে নেমে এসেছে।