মহারাষ্ট্রে নতুন জোটের ইঙ্গিত! মহাযুতিতে আসন নিয়ে টানাপোড়েন, শিন্ডের নজরে হিতেন্দ্র ঠাকুরের দল

মহারাষ্ট্রে বিধান পরিষদ নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাযুতি জোটের অন্দরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা তুঙ্গে। আগামী ১৯ জুন মহারাষ্ট্রের ১৭টি বিধান পরিষদ আসনে ভোটগ্রহণ এবং ২২ জুন গণনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, জোটের অন্দরে ঐকমত্য না থাকায় থানে-পালঘর আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। সূত্রমতে, মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এখন নতুন কৌশলে হিতেন্দ্র ঠাকুরের ‘বহুজন বিকাশ আঘাড়ি’ (BVA)-কে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাইছেন।
কেন এই নতুন সমীকরণ?
ভাসাই-ভিরার অঞ্চলে বহুজন বিকাশ আঘাড়ির প্রভাব সুবিদিত। যদিও বিধানসভা নির্বাচনে দলটিকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল, তবুও দুই বছর আগে ভাসাই-ভিরার পৌরসভা (VVMC) নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে তারা নিজেদের শক্তি পুনরায় প্রমাণ করেছে। এই ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে এখন একনাথ শিন্ডে ও হিতেন্দ্র ঠাকুরের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে খবর। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের কথা ঘোষণা করেনি।
রবীন্দ্র ফাটকের মাথাব্যথা:
এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে মুখ্যমন্ত্রী শিন্দের ঘনিষ্ঠ নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্র ফাটককে। তিনি এতদিন থানে-পালঘর আসনের প্রধান দাবিদার ছিলেন। কিন্তু যদি বিভিএ শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) সঙ্গে জোট বাঁধে, তবে রবীন্দ্র ফাটকের প্রার্থিতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ক্ষিতিজ ঠাকুর কি নতুন প্রার্থী?
গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, সমঝোতা সফল হলে হিতেন্দ্র ঠাকুরের ছেলে ক্ষিতিজ ঠাকুরকে এই আসনে শিবসেনার আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও হিতেন্দ্র ঠাকুরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব:
মহারাষ্ট্রের ১৭টি আসনের এই নির্বাচন কার্যত মহাযুতি জোটের কাছে নিজেদের ঐক্য প্রমাণের পরীক্ষা। একদিকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন, অন্যদিকে নতুন জোটের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে থানে-পালঘর আসনটি এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্র ফাটক না কি ক্ষিতিজ ঠাকুর—কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে।