তৃণমূল জমানার অবসান? শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির তৃণমূলের ‘বেসুরো’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার

রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বাংলা। বিগত ১৫ বছরে যা কখনও ঘটেনি, সরকারের পালাবদলের পর সেটাই বাস্তব হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পেলেন বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদরা। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে এদিন কোনো আড়ম্বর বা বাড়তি খরচ ছাড়াই অত্যন্ত ছিমছামভাবে অনুষ্ঠিত হলো এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

বৈঠকে তৃণমূল সাংসদের উপস্থিতি
কল্যাণীতে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যা সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হলো বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি। বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় সরকারি প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি, এই বৈঠকে যোগ দেন দেগঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান এবং স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডলও।

কেন এই যোগদান? কী বললেন কাকলি?
কেন শাসক দলের হয়েও বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক সভায় এলেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাফ জানান, “এটি কোনো পার্টি মিটিং নয়, প্রশাসনিক বৈঠক। আর প্রশাসন তো সবার জন্যই।” তাঁর এই মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির পার্থক্য
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়ক বা সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানোর রেওয়াজ ছিল না। সেই সময় সরকারি বৈঠকগুলোতে মূলত তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাই উপস্থিত থাকতেন এবং বেশ আড়ম্বরের সাথেই তা পালিত হতো। এই বদল প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের দাবি, তৃণমূলের সংস্কৃতি আর বিজেপির সংস্কৃতির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই নতুন ধারা চালু করা হয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শুভেন্দু সরকারের এই ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ বার্তা বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটাল।