পদ্ম-শিবিরে যোগদানের জল্পনা তুঙ্গে! শুভেন্দুর ডেরায় পৌঁছে মাস্টারস্ট্রোক কাকলির?

বাংলার রাজনীতিতে কি তবে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার ‘বয়কট সংস্কৃতি’ ভেঙে নতুন ধারার সূচনা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কল্যাণীর মাটিতে আয়োজিত নদীয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যে দৃশ্য দেখা গেল, তা গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কার্যত বেনজির। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঠিক পাশেই বসে থাকতে দেখা গেল বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।

জল্পনার কেন্দ্রে কাকলির উপস্থিতি
সাংসদের এই উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দিনকয়েক আগেই বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছিল কাকলিকে। এরপর তৃণমূলের লোকসভার ‘চিফ হুইপ’-এর পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলে তিনি নিজের ক্ষোভ গোপন রাখেননি। জোড়াফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব যখন স্পষ্ট, ঠিক সেই মুহূর্তেই মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে এক প্রকার কড়া বার্তা দিতেই কি এই পদক্ষেপ?

‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ সাংসদের
বৈঠক শেষে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে তড়িঘড়ি আসরে নামেন সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাফাই দিয়ে বলেন, “এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়, সম্পূর্ণ সরকারি ও প্রশাসনিক বৈঠক। আমি এলাকার সাংসদ, তাই এলাকার মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই এই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছি।” তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তিনি রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিলেও, শাসক দলের অন্দরের কোন্দল এখন প্রকাশ্য রাস্তায়।

শুভেন্দুর ‘সমন্বয় রাজনীতি’
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই নীতি মেনে উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের পাঠানো হয়েছিল আমন্ত্রণপত্র। দেগঙ্গা ও স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই কল্যাণীর বৈঠকে পৌঁছে যান কাকলি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ব্রাত্য করে রাখার যে রেওয়াজ ছিল, তার উল্টো পথে হেঁটে শুভেন্দুর এই ‘সমন্বয় রাজনীতি’ একদিকে যেমন বিরোধী শিবিরকে বড় চমক দিল, তেমনই তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতাকে আরও প্রকট করে তুলল। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।