১৫ই জুন কাইঞ্চি ধাম প্রতিষ্ঠা দিবস! বাবা নিম করোলির আশীর্বাদ পেতে কেন ভিড় করেন লক্ষ ভক্ত?

উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার মনোরম পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত ‘কাইঞ্চি ধাম’ কেবল একটি আশ্রম নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের জন্য বিশ্বাসের এক প্রধান কেন্দ্র। প্রতি বছর ১৫ই জুন এই ধামে উদযাপিত হয় প্রতিষ্ঠা দিবস। ১৯৬৪ সালের এই দিনেই বাবা নিম করোলি মহারাজ কাইঞ্চি ধাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ এই দিনটি বাবার ভক্তদের কাছে একটি মহা উৎসবের রূপ নিয়েছে।

কেন এই স্থানের নাম ‘কাইঞ্চি’ ধাম?
কাইঞ্চি ধামের নাম নিয়ে ভক্তদের মনে কৌতূহল চিরকাল। এর পেছনে রয়েছে ভৌগোলিক কারণ। দুটি পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই জায়গাটি দেখতে অনেকটা একজোড়া কাঁচির দুটি ফলকের মতো। স্থানীয় ভাষায় কাঁচিকে ‘কাইঞ্চি’ বলা হয়, আর সেই থেকেই জায়গাটির নাম হয়েছে কাইঞ্চি ধাম। বাবা নিম করোলি এই স্থানের আধ্যাত্মিক শক্তি অনুভব করেই তাঁর সাধনার জন্য এটিকে বেছে নিয়েছিলেন।

বাবা নিম করোলি মহারাজ ও তাঁর অলৌকিকতা
ভক্তদের কাছে তিনি স্নেহভাজন ‘মহারাজ জি’। তিনি ছিলেন ভগবান হনুমানের পরম ভক্ত। তাঁর জীবন যেমন ছিল সরল, তেমনি ছিল অলৌকিকতায় পূর্ণ। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির ওপর অটল বিশ্বাস রাখেন।

সবচেয়ে জনপ্রিয় অলৌকিক কাহিনী: কাইঞ্চি ধামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘জল থেকে ঘি’ তৈরির এক জনপ্রিয় কাহিনী। কথিত আছে, একবার ভোজের সময় ঘিয়ের অভাব দেখা দিলে বাবা নিম করোলি নির্দেশ দেন নদী থেকে জল এনে পাত্রে ঢালতে। ভক্তদের বিশ্বাস, বাবার অলৌকিক স্পর্শে সেই জল তৎক্ষণাৎ ঘিতে পরিণত হয় এবং কোনো বিঘ্ন ছাড়াই ভোজ সম্পন্ন হয়।

প্রতিষ্ঠা দিবসের ইতিহাস
১৯৬২ সাল: বাবা নিম করোলি প্রথম এই স্থানে পদার্পণ করেন।

১৯৬৪ সালের ১৫ই জুন: এই দিনেই আশ্রমের প্রতিষ্ঠা হয় এবং ভগবান হনুমানের মূর্তি স্থাপন করা হয়।
সেই থেকে প্রতি বছর ১৫ই জুন দিনটি কাইঞ্চি ধাম প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হয়।

প্রতিষ্ঠা দিবসে কী হয়?
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কাইঞ্চি ধামে ভজন-কীর্তন, মহাভোজ এবং বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। এদিন দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত বাবার দর্শন ও আশীর্বাদ লাভের আশায় এখানে ভিড় জমান। সারারাত লাইনে দাঁড়িয়েও ভক্তরা একবার বাবার দরবারে পৌঁছানোর সুযোগ খুঁজেন, কারণ বিশ্বাস করা হয়—সরল হৃদয়ে প্রার্থনা করলে বাবা নিম করোলি ভক্তের সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন।

উত্তরাখণ্ডের এই শান্ত ও নিস্তব্ধ পাহাড়ে প্রতি বছর ১৫ই জুনের এই ভিড় যেন মানুষের অগাধ বিশ্বাসেরই এক জীবন্ত প্রমাণ।