বেকারদের কণ্ঠস্বর এখন ‘ককরোচ পার্টি’? মমতার সমর্থনে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা

দেশের বেকার যুবকদের ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক অভিনব সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ড ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) এখন রাজনীতির মূল আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই দলটির প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
সমর্থনের নেপথ্যে:
সোমবার সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। মমতা ও অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকের বিবরণ দিয়ে তিনি লেখেন, “দুজনই ন্যায়ের জন্য লড়তে প্রস্তুত। তাঁদের সংকল্প দৃঢ়। আর হ্যাঁ, দুজনেই ককরোচ দলের প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।” তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই অবস্থান দলটির কাছে বড় পাওনা বলে মনে করা হচ্ছে।
কী এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?
এই দল বা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্তের এক মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি বেকার যুবকদের নিয়ে ‘ককরোচ’ বা আরশোলা সংক্রান্ত একটি মন্তব্য করেছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ১৬ মে-র পর থেকে এই প্রচার দ্রুত একটি সংগঠিত রূপ নেয় এবং প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। দলটির জনপ্রিয়তা এতই বেড়ে যায় যে, তাদের ওয়েবসাইট এবং একাধিক এক্স-অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বা সরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক সমর্থন ও ভবিষ্যৎ:
দেশের সাধারণ মানুষের বেকারত্ব ও অন্যান্য সমস্যা তুলে ধরার কারণেই এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি আম আদমি পার্টি (AAP) এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও এর আগে এই দলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছেন এই ইস্যুতে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর ছাড়া মূল বিরোধী দলের অন্যান্য নেতারা এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি।
তৃণমূলের লক্ষ লক্ষ কর্মী এই দলে যোগ দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তবে ককরোচ জনতা পার্টির এই অকল্পনীয় উত্থান আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।