বিয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘যৌতুক’ আবদার! প্রেমিককে হারিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ নববধূ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রেম গড়িয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে, কিন্তু সেই সুখ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা দাবি এবং তা মেটাতে না পারায় নববধূকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের কোডারমা জেলার সাতগাওয়ান এলাকায় এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রেমের শুরু ও নাটকীয় পরিণয়
অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইতাই গ্রামের বাসিন্দা রোশন কুমারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর প্রেমে রূপ নেয়। তরুণীর দাবি অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোশন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করেন। গত ২১ মে রোশন হঠাৎ করেই তরুণীর বাড়ি—পাচৌদি গ্রামে গিয়ে উপস্থিত হন। গ্রামবাসীরা তাঁদের দুজনকে একসাথে দেখে ফেললে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে সেই রাতেই প্রকাশ্যে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন রোশন। পরদিন, ২২ মে গ্রামের এক মন্দিরে সামাজিক রীতিনীতি মেনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

যৌতুকের দাবিতে বিচ্ছেদ?
বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় বিপত্তি। তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের পর রোশনের পরিবার যৌতুক হিসেবে নগদ ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। তরুণী ও তাঁর পরিবার যখন এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই কোনো এক অজুহাতে রোশন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

থানায় অভিযোগ দায়ের
প্রেমিক তথা স্বামীর এহেন কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে তরুণী অবশেষে কোডারমার সাতগাওয়ান থানায় আশ্রয় নেন। তিনি রোশন কুমার এবং তাঁর পরিবারের আরও সাত সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সাতগাওয়ান থানা। স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

নিছক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রেম থেকে প্রতারণার এই ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনের পথে হেঁটে তরুণী ন্যায়বিচার পান কি না।