ভাইয়ের খুনি নিজেই বাদী! বিমার টাকা ও সম্পত্তির লোভে আপন ভাইকে গুলি করে হত্যা

সম্পত্তির লোভ এবং প্রেমঘটিত বিরোধ—এই দুইয়ের মিশেলে এক নৃশংস ভ্রাতৃঘাতী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এল উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলায়। নিজের ভাইকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজেই মামলা দায়ের করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের নিবিড় তদন্তে ফাঁস হয়ে গেল খুনি ভাইয়ের কুকীর্তি। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত উমেশ পাল সিংকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত
গত ৩০ এপ্রিল রাতে বেরেলির ফরিদপুরের রায়পুর হংস গ্রামে ইন্দ্রপাল সিং নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর নিহত ইন্দ্রপালের ভাই উমেশ পাল সিং গ্রামেরই কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এগোনোর চেষ্টা করে।

তদন্তে মিলল ক্লু
হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে পুলিশ একাধিক বিশেষ দল গঠন করে। নজরদারি দল, এসওজি (SOG), ডগ স্কোয়াড এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ—সবাইকে কাজে লাগানো হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশের সন্দেহের তীর ঘুরে যায় বাদী উমেশ পালের দিকেই। কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়েন উমেশ এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন।

হত্যার নেপথ্যে ভয়াবহ কারণ
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উমেশ জানায়, তার একটি প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল, যা তার ভাই ইন্দ্রপাল কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ও অশান্তি চলছিল। এছাড়া, ভাইয়ের নামে থাকা বিপুল সম্পত্তি আত্মসাৎ করা এবং মোটা অঙ্কের বিমা (Insurance) দাবির টাকা হাতানোর পরিকল্পনাও ছিল উমেশের। নিজের পথের কাঁটা সরাতেই সে ভাইকে গুলি করে হত্যার ছক কষে।

আইনের জালে অপরাধী
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে উমেশ নাটকীয়ভাবে কান্না শুরু করে এবং গ্রামবাসীদের ফাঁসানোর জন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু ফরেনসিক প্রমাণ এবং পুলিশের সূক্ষ্ম তদন্তে সব ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশের সার্কেল অফিসার অঞ্জনা দাহিয়া জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত পিস্তল ও দুটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।