তীব্র দাবদাহে অন্ধকারের কবলে উত্তর প্রদেশ! বিদ্যুৎ সংকটে অচল ডজনখানেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র!

চড়া রোদে পুড়ছে উত্তর প্রদেশ, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে রাজ্যে আরও গভীর হচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, কয়লা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি আর কারিগরি গোলযোগের কারণে মে মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যের ডজনখানেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছিল। এর ফলে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গ্রামীণ থেকে শহুরে—সর্বত্রই এখন তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
যেসব কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতি:
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই চরম সংকটের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু বড় নাম। যার মধ্যে অন্যতম:
ঘাটামপুর টিপিএস (৬৬০ মেগাওয়াট): টানা ১৮ দিন বন্ধ।
ললিতপুর টিপিএস (৬৬০ মেগাওয়াট): ১১ দিন বন্ধ।
জেএসডব্লিউ মহানদী (১০০০ মেগাওয়াট): ১০ দিন বন্ধ।
ওবরা বি ও সি টিপিএস (৮৬০ মেগাওয়াট সম্মিলিত): যথাক্রমে ৯.৫ ও ৮ দিন বন্ধ।
এ ছাড়াও আনপারা, জওহরপুর, ল্যাঙ্কো এবং পরিচ্ছা টিপিএস-এর বিভিন্ন ইউনিট বেশ কয়েকদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সিস্টেমের ত্রুটি ও জনবল সংকট
উত্তর প্রদেশ রাজ্য বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিষদের চেয়ারম্যান অবধেশ কুমার বর্মা এই পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, “সিস্টেম ক্ষমতার মধ্যে ২ কোটি কিলোওয়াটেরও বেশি গরমিল, চরম জনবলের অভাব এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ছাঁটাই পুরো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।” তাঁর মতে, ‘ভার্টিকাল সিস্টেম’ চালুর পর থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, চড়া বিদ্যুৎ বিল দিলেও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা মিলছে না।
সরকারের ভূমিকা ও দাবি
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির পর্যালোচনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। তবে গ্রাহক পরিষদের চেয়ারম্যানের মতে, কেবল নির্দেশিকা জারি যথেষ্ট নয়, বরং বিদ্যুৎ কর্পোরেশনকে আত্মতুষ্টির বাইরে এসে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিষদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে অচল উৎপাদন ইউনিটগুলো সচল করা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কয়লা ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই বেহাল দশা কৃষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড়সড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, সরকারের কঠোর নির্দেশনায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয় কি না।