এআই বাণিজ্যে ভাটার টান? উদীয়মান বাজার থেকে ৮০০ কোটি ডলার তুলে নিলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা!

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কেন্দ্রিক বাণিজ্যের জয়জয়কার কি তবে থমকে যাচ্ছে? গত এক বছর ধরে এআই-এর হাত ধরে বিশ্ববাজারে যে জোয়ার এসেছিল, তাতে এখন ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FPI) উদীয়মান বাজারগুলো থেকে ধারাবাহিকভাবে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

তহবিল থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের বহির্গমন
এলারা সিকিউরিটিজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো উদীয়মান বাজার (Emerging Markets) থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ তুলে নেওয়ার হিড়িক দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বহির্গমন ঘটেছে। গত ১৫ সপ্তাহে মোট বহির্গমনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪.৪ বিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে, চীন-কেন্দ্রিক তহবিলগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে, যেখান থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ৭৯ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী বিনিয়োগকারীরা
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘অ্যাক্টিভ লং-অনলি’ ফান্ডগুলোতে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি। তবে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এর ক্ষেত্রে প্রবাহ কিছুটা ইতিবাচক থাকায় বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এটি স্পষ্ট করে যে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা এখন বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। গ্লোবাল এমার্জিং মার্কেট (GEM) তহবিল থেকেও টানা তৃতীয় সপ্তাহে ৭৩৮ মিলিয়ন ডলার তুলে নেওয়া হয়েছে।

এশীয় বাজার ও ভারতের বর্তমান চিত্র
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো প্রযুক্তি-নির্ভর বাজারগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। এআই বিপ্লবের সুবাদে এই বাজারগুলো ছিল বিনিয়োগের হটস্পট। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে:

দক্ষিণ কোরিয়া: গত তিন সপ্তাহে রেকর্ড ১.৩ বিলিয়ন ডলার এবং এই সপ্তাহে আরও ৫৮৭ মিলিয়ন ডলারের বহির্গমন হয়েছে।

তাইওয়ান: বিনিয়োগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ব্রাজিল: ডিসেম্বর ২০২৪-এর পর এবারই সর্বোচ্চ ২৩০ মিলিয়ন ডলার বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

ভারতের জন্য কি স্বস্তির খবর?
ভারতের জন্য সুখবর হলো, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ ধীরে ধীরে কমছে। এপ্রিলে ভারত থেকে যেখানে ১.৫ বিলিয়ন ডলার এবং মার্চ মাসে রেকর্ড ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গিয়েছিল, সেখানে মে মাসে এই অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে ৭০২ মিলিয়ন ডলারে। বিগত দুই সপ্তাহে ভারত-কেন্দ্রিক তহবিলগুলোতে এক ধরনের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজার বিশেষজ্ঞদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।