‘বিজেডি-তে আমার ভবিষ্যৎ শেষ’! পদত্যাগ করলেন রাজ্যসভা সাংসদ, ওড়িশার রাজনীতিতে বড় পটপরিবর্তন!

ওড়িশার রাজনৈতিক আঙিনায় ফের বড়সড় ভাঙন। বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর ক্ষত না শুকাতেই এবার বিজু জনতা দলের (বিজেডি) অন্দরে বড়সড় ধাক্কা। দলের প্রবীণ নেতা এবং রাজ্যসভার সাংসদ দেবাশিস সামন্তরায় সোমবার দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। নবীন পট্টনায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতার দলত্যাগ ওড়িশার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পদত্যাগের নেপথ্যে কী?
দলত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে সামন্তরায় অভিযোগ করেছেন, দলের ভেতর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। তিনি চিঠিতে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “কিছুদিন ধরে অনুভব করছি যে, আমাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে এবং দলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।” তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াকফ বিল নিয়ে দলের অবস্থান, সংগঠনের অন্দরে ভি. কে. পান্ডিয়ানের অতিকায় প্রভাব এবং নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভাবই তাঁর এই কঠিন সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
পান্ডিয়ান ইস্যুতে তোপ
পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন সামন্তরায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “বিজেডি এখনো ভি. কে. পান্ডিয়ানের অঙ্গুলিহেলনেই পরিচালিত হচ্ছে। দলের বিপর্যয়ের জন্য পান্ডিয়ানই দায়ী, অথচ নবীনবাবু তাঁকে ক্রমাগত রক্ষা করছেন।” তাঁর এই মন্তব্যে নবীন শিবিরের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
বিজেপির পথে সামন্তরায়?
গত কয়েক মাসে সুজিত কুমার ও মমতা মহান্তার মতো একাধিক রাজ্যসভা সাংসদ বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সেই ধারা বজায় রেখেই সামন্তরায়ও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে পারেন বলে প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, অত্যন্ত কৌশলী উত্তর দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “রাজনীতিতে সব বিকল্পই খোলা থাকে। খুব শীঘ্রই আপনারা সব জানতে পারবেন।”
বিজেডি-র জন্য বড় ধাক্কা
২০২৪ সালের এপ্রিলে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সামন্তরায়ের এই প্রস্থান দলটির মনোবল আরও ভেঙে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আমলা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া এই প্রবীণ নেতার বিদায় নবীন পট্টনায়কের দীর্ঘদিনের অনুগত মহলেও ফাটল ধরিয়েছে। এখন দেখার, সামন্তরায়ের এই বিদ্রোহের পর বিজেডি নিজেদের ঘর সামলাতে কোন কৌশল গ্রহণ করে।