১৩০ সন্তান, ৮৭০ নাতি-নাতনি! একাই গ্রাম গড়া এই কৃষক কি বিশ্বের সবচেয়ে ‘ভাগ্যবান’ নাকি সমস্যাগ্রস্ত?

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে যেখানে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে উগান্ডার ৬৮ বছর বয়সী কৃষক মুসা হাসাহ্যা কাসেরার (Musa Hasahya Kasera) পরিবার যেন কল্পকাহিনিকেও হার মানায়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া মুসার পরিবারকে দেখলে মনে হবে, এটি কেবল একটি পরিবার নয়, আস্ত একটি গ্রাম! ৮ স্ত্রী ও ১৩০ সন্তানের এই অতিকায় পরিবারের কথা শুনে বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা রীতিমতো বিস্ময়ে হতবাক।
এক নজরে মুসা-র বিশাল পরিবার:
সন্তানসংখ্যা: ১৩০ জন।
নাতি-নাতনি: ৮৭০ জনেরও বেশি।
পরিবার পরিকল্পনা: ৬৮ বছর বয়সী এই কৃষকের ৮ জন স্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম মনে থাকলেও, মাঝের অনেকের নামই এখন তাঁর স্মৃতির বাইরে। সব নাম ও তথ্য তিনি নোটবুকে লিখে রাখেন।
জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতা:
ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে মুসা জানিয়েছেন, কৃষিকাজই তাঁর আয়ের মূল উৎস। পুরো পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার জোগাড় করাটা প্রতিদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। মুসার কথায়, “এত বড় পরিবার সামলানো এখন ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। আমি আর সন্তান চাই না।” এখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা (Family Planning) গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়:
মুসার জীবন নিয়ে তৈরি ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ তাঁকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উর্বর পুরুষ’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ লিখেছেন, “এখনকার দিনে একটি সন্তান বড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ১৩০ জন সন্তান বড় করা প্রায় অসম্ভব।”
বর্তমান পরিস্থিতি:
আধুনিক যুগে আফ্রিকাতেও এ ধরনের পরিবার এখন বিরল। মুসা স্বীকার করেছেন যে, তাঁর পরিবার এখন অনেক বড় হয়ে গেছে এবং তাদের এখন আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন। তাঁর অনেক সন্তানই এখন প্রাপ্তবয়স্ক, বিবাহিত এবং নিজেদের পরিবার সামলাচ্ছেন। চাষাবাদের কাজে পুরো পরিবার মিলেমিশে সাহায্য করলেও, মুসা এখন নিজের এই অতিকায় পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন।
এই গল্পটি একদিকে যেমন বিস্ময় জাগাচ্ছে, অন্যদিকে আধুনিক সমাজব্যবস্থায় বৃহৎ পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।