দিল্লিতে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ব্লু-প্রিন্ট! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার দিল্লি সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে নতুন সরকারের গঠনমূলক দিশা ঠিক করা, আর অন্যদিকে রাজ্যের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও উন্নয়নমূলক ইস্যু—সব মিলিয়ে আজকের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সাজ সাজ রব।

মোদী-শুভেন্দু বৈঠক: কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রশাসনিক প্রথা মেনে রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছেন শুভেন্দু। তবে এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বে ঠাসা। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার গঠিত বিজেপি শাসিত সরকারের ‘ডবল ইঞ্জিন’ উন্নয়নের রূপরেখা কেমন হবে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। গত দুই সপ্তাহে রাজ্যের নতুন সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই রিপোর্টও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকের প্রধান আলোচ্যসূচি:

অর্থনৈতিক প্যাকেজ: রাজ্যের নাজুক আর্থিক পরিকাঠামো মজবুত করতে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের আবেদন জানান কি না মুখ্যমন্ত্রী, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

বকেয়া পাওনা: রাজ্যের দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটানোর বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান এবং তা দ্রুত সমাধানের পথ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

শিল্পায়ন: পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্পসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে লগ্নি বাড়াতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, তা আজকের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

একগুচ্ছ বৈঠক, ঠাসা কর্মসূচি:
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নিজের পরিচিতি ও প্রভাব পোক্ত করতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দু। আজ সকালেই তিনি বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। সূত্রের খবর, গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একদফা আলোচনার পর আজও তাঁর সঙ্গে ফের বৈঠক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই সফরের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের আগামী দিনের পথচলা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক কোন সমীকরণে এগোবে।