ভারতের বাজারে টয়োটার মহাবিক্রম! ৩ লক্ষ ছুঁল হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি, কী এমন ম্যাজিক রয়েছে এই প্রযুক্তিতে?

ভারতীয় গাড়ি প্রেমীদের অন্দরে এখন একচেটিয়া রাজত্ব করছে হাইব্রিড প্রযুক্তি। দেশের বাজারে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করল জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টয়োটা কির্লোস্কর মোটর (Toyota Kirloskar Motor)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতে তাদের তৈরি পরিবেশবান্ধব ‘স্ট্রং হাইব্রিড’ (Strong Hybrid) গাড়িগুলির মোট বিক্রি ৩ লক্ষ ইউনিটের গণ্ডি পার করে গিয়েছে।টয়োটার এই বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে মূল কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করেছে ভারতীয় বাজারে তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি মডেল—Toyota Urban Cruiser Hyryder এবং Toyota Innova HyCross। এই দুই গাড়ির বিপুল চাহিদাই টয়োটাকে ভারতের হাইব্রিড সেগমেন্টের অবিসংবাদিত নেতা করে তুলেছে।বাইরে থেকে প্লাগ-ইন চার্জের নো টেনশন!ভারতে বর্তমানে টয়োটা চার ধরনের সেলফ-চার্জিং হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি করে:টয়োটা আরবান ক্রুজার হাইরাইডার (SUV)টয়োটা ইনোভা হাইক্রস (MPV)টয়োটা ক্যামরি হাইব্রিড (Premium Sedan)টয়োটা ভেলফায়ার (Luxury MPV)কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এই গাড়িগুলির সবচেয়ে বড় ইউএসপি (USP) হলো এগুলি সম্পূর্ণ ‘সেলফ-চার্জিং’। অর্থাৎ, সাধারণ ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) মতো এদের বাইরে থেকে প্লাগ গুঁজে চার্জ দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই! গাড়ি চলার সময় ব্রেকিং এনার্জি এবং পেট্রল ইঞ্জিনের শক্তির সাহায্যেই ভেতরের ব্যাটারি নিজে নিজেই চার্জ হয়ে যায়।৮ বছরের ওয়ারেন্টি এবং চমৎকার মাইলেজসংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হাইব্রিড গাড়িগুলিতে শক্তিশালী পেট্রল ইঞ্জিনের পাশাপাশি একটি ইলেকট্রিক মোটর ও ব্যাটারি প্যাক থাকে। রাস্তার ট্রাফিক এবং ড্রাইভিং কন্ডিশন অনুযায়ী গাড়ির কম্পিউটার নিজেই ঠিক করে নেয় কখন ইঞ্জিন চলবে আর কখন গাড়িটি ইলেকট্রিক মোডে নিঃশব্দে এগোবে। এর ফলে একদিকে যেমন অবিশ্বাস্য রকমের বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়, তেমনই কার্বন নির্গমন তথা পরিবেশ দূষণ একধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়।গ্রাহকদের জন্য বাম্পার ভরসা: হাইব্রিড প্রযুক্তি নিয়ে ভারতীয় গ্রাহকদের মনের সংশয় দূর করতে টয়োটা এই গাড়িগুলির ব্যাটারির ওপর পুরো ৮ বছরের অন-সাইট ওয়ারেন্টি দিচ্ছে।বিশ্বজুড়ে ৩.৮ কোটিরও বেশি গাড়ি বিক্রি ও কার্বন মুক্তিটয়োটা জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কেবল একটি প্রযুক্তিতে আটকে থাকা নয়, বরং ‘মাল্টি-পাথওয়ে’ কৌশলের মাধ্যমে কম দূষণকারী বিভিন্ন টেকনোলজিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর মধ্যে হাইব্রিড ইলেকট্রিক, প্লাগ-ইন হাইব্রিড, ব্যাটারি ইলেকট্রিক (BEV), ফুয়েল-সেল এবং ফ্লেক্স-ফুয়েল চালিত যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সমগ্র বিশ্বজুড়ে টয়োটা এখনও পর্যন্ত ৩.৮ কোটিরও বেশি এই ধরণের ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি করে ফেলেছে। যার ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু থেকে প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন টন ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড ($CO_2$) নির্গমন কমানো সম্ভব হয়েছে।সংস্থার পদস্থ আধিকারিক সবরি মনোহর এই বিষয়ে বলেন, “হাইব্রিড প্রযুক্তি হলো ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং বাস্তবসম্মত বিকল্প। চার্জিং পরিকাঠামো নিয়ে কোনও রকম দুশ্চিন্তা বা ঝামেলা ছাড়াই এটি মানুষকে পরিবেশবান্ধব মোবিলিটির দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।” চড়া পেট্রলের দামের যুগে এই প্রযুক্তি যে আগামী দিনে ভারতের রাজপথ শাসন করবে, তা বলাই বাহুল্য।