NEET ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে তোলপাড়! সিবিআই-এর নজরে এই দুই শহরের মেগা কোচিং সেন্টার, উঠে এলো বিস্ফোরক তথ্য

নিট (NEET) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর নজরে রয়েছে দেশের দুটি প্রধান নিট কোচিং হাব—মহারাষ্ট্রের লাতুর এবং রাজস্থানের সিকার। ইতিমধ্যেই এই দুই শহরের একাধিক কোচিং সেন্টারে ম্যারাথন অভিযান চালিয়েছে সিবিআই।
সিকার ও লাতুরের রেজাল্ট কি স্বাভাবিক, নাকি এর পেছনে অন্য খেলা?
তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে এই দুই শহরের নজরকাড়া সাফল্যের পরিসংখ্যান।
সিকার (রাজস্থান): ২০২৪ সালের পরীক্ষায় এখান থেকে ২৭,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল। যার মধ্যে ১৪৯ জন ৭০০-এর বেশি এবং ২,০০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী ৬৫০-এর বেশি নম্বর পেয়েছিল।
লাতুর (মহারাষ্ট্র): এখান থেকে ২৪,০০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী নিট ইউজি পরীক্ষায় অংশ নেয়, যাদের মধ্যে ৩,৫০০-এর বেশি ছাত্রছাত্রী ৫০০-এর বেশি নম্বর পেয়েছিল।
গত কয়েক বছরে সিকার এবং লাতুর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কোচিং হাব হিসেবে উন্নতি করেছে। কম ফি এবং অভাবনীয় ফলাফলের জন্য এই দুই শহরের নাম ছড়িয়ে পড়লেও, বর্তমান প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি গোটা সাফল্যের ওপর একটা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।
তবে শুধু সিকার বা লাতুরই নয়, এই তদন্তের রেশ দেশের অন্যান্য বড় শিক্ষাকেন্দ্র বা কোচিং হাবগুলোর দিকেও যাচ্ছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ভারতের সেই শীর্ষ শহরগুলো, যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ পড়ুয়া নিট-এর প্রস্তুতি নিতে যায়:
১. কোটা (রাজস্থান) – দেশের কোচিং রাজধানী
কোটাকে ভারতের বৃহত্তম ‘কোচিং ক্যাপিটাল’ বলা হয়। নিট (NEET) এবং জেইই (JEE) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করেই লাখ লাখ পড়ুয়া এখানে আসে। গত বছরও কোটার চারজন ছাত্রছাত্রী নিট পরীক্ষার শীর্ষ দশে (Top 10) স্থান পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে কোটার নামী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন আতসকাঁচের তলায়।
২. দিল্লি – জাতীয় স্তরের সেরা হাব
দেশের রাজধানী দিল্লি কেবল ইউপিএসসি (UPSC)-র জন্য নয়, নিট এবং জেইই-এর জন্যও একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল। অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই পড়াশোনার দুর্দান্ত পরিবেশ থাকায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী এখানে ভিড় জমায়।
৩. পাটনা (বিহার) – পূর্ব ভারতের আশার আলো
বিহারের রাজধানী পাটনা এখন সমগ্র পূর্ব ভারতের একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানকার বেশ কিছু কোচিং ইনস্টিটিউট অত্যন্ত কম খরচে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি করায় এবং প্রতি বছর পাটনা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নিট পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পায়।
৪. হায়দ্রাবাদ এবং চেন্নাই – দক্ষিণ ভারতের ভরসা
দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার পড়াশোনার ক্রেজ সবসময়ই বেশি। তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ এবং তামিলনাড়ুর চেন্নাইকে দক্ষিণ ভারতের প্রধান মেডিকেল কোচিং কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার সিংহভাগ কৃতী ছাত্রছাত্রী হায়দ্রাবাদ থেকেই নিট-এর বৈতরণী পার করে।
এখন প্রশ্ন হলো, সিবিআই-এর এই সাঁড়াশি অভিযানের পর নিট ২০২৬-এর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে? কোচিং সেন্টারগুলোর এই রমরমা ব্যবসার আড়ালে আর কোনো বড় মাথার হাত রয়েছে কি না, সেটাই এখন দেখার।