পেট্রোলের চেয়ে ৩০% সস্তা! মোদী সরকারের মেগা প্ল্যানে হু হু করে কমবে তেলের দাম, আসছে ৫,০০০ নতুন পাম্প

অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর ভারতের বিশাল নির্ভরতা কমাতে এবার কোমর বেঁধে নামছে মোদী সরকার। আর বিদেশি তেলের ওপর ভরসা নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০০% ইথানল বা ‘ই১০০’ (E100) ফ্লেক্স ফুয়েলকে দ্রুত বাজারে আনার মেগা প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ৫,০০০টি ই১০০ ফুয়েল স্টেশন খোলা হবে। এর ফলে দেশে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির (FFV) জোয়ার আসবে এবং বাঁচবে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।

শুরু হচ্ছে মেগাসিটি দিয়ে: প্রথম তালিকায় কোন কোন শহর?
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী, প্রথম ধাপেই দেশের বড় শহরগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে।

আগামী ১ মাস: দিল্লি, মুম্বাই, পুনে এবং নাগপুরে ১৫০টি ই১০০ ফুয়েল স্টেশন চালু করা হবে।

আগামী ৬-১২ মাস: দিল্লি-এনসিআর ও সমগ্র মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কলকাতা এবং হায়দ্রাবাদেও মিলবে এই সুবিধা।

চূড়ান্ত লক্ষ্য: প্রথম পর্যায়ে ৫০০টি খুচরা আউটলেট দিয়ে শুরু করে আগামী ২৪ মাসের মধ্যে এই সংখ্যা ৫,০০০-এ নিয়ে যাওয়া হবে।

গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় টাটা-মারুতি-মাহিন্দ্রা
দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি ও বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান—মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই, টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, হিরো মোটোকর্প এবং টিভিএস ইতিমধ্যেই তাদের ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির প্রোটোটাইপ বা মডেল তৈরি করে ফেলেছে। তবে এতদিন দেশজুড়ে ই১০০ পাম্পের অভাব এবং জ্বালানির দাম নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি। পাম্প চালু হলেই শোরুমে ঝড় তুলবে এই গাড়িগুলো।

কী এই ফ্লেক্স-ফুয়েল?
এটি এমন এক বিশেষ ইঞ্জিন প্রযুক্তি, যা সাধারণ পেট্রোলের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতেও সমানভাবে চলতে পারে।

দেশ বাঁচবে ১০.৯ লক্ষ কোটির খরচ, সস্তা হবে জ্বালানি?
পরিসংখ্যান বলছে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ১০.৯ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ইথানলের ব্যবহার বাড়লে এই বিপুল অঙ্কের সাশ্রয় হবে। তবে সাধারণ মানুষের পকেট বাঁচাতে ‘সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স’ (SIAM)-এর বড় পরামর্শ রয়েছে। তাদের মতে, ইথানলের মাইলেজ পেট্রোলের চেয়ে কিছুটা কম হওয়ায়, সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে এর দাম সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে অন্তত ৩০% কম রাখতে হবে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: ডিম ও মুরগির লড়াই!
বর্তমানে ভারতে পেট্রোলের সাথে ২০% ইথানল (E20) মেশানো হচ্ছে। তবে ১০০% ইথানলের ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হলো চাহিদা তৈরি করা। পূর্বে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC) ৪০০টি পাম্পে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ই১০০ এনেছিল, কিন্তু গাড়ি না থাকায় চাহিদা ছিল তলানিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি বাজারে না এলে পাম্প চলবে না, আবার পাম্প না থাকলে মানুষ গাড়ি কিনবে না। এই বৃত্ত ভাঙতেই এবার একযোগে পাম্প ও গাড়ি—দুটোই বাজারে নামানোর মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে কেন্দ্র।