আমেরিকা-ভারতকে কাঁপিয়ে দিল তুরস্কের নতুন মিসাইল! কী এমন আছে ‘ইলদিরিমহান’-এ যা দেখে ঘুম উড়ল বিশ্বের?

আরব বিশ্বের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই এক অভাবনীয় এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পদক্ষেপ নিল তুরস্ক। বিশ্ব পরাশক্তিদের কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আঙ্কারা। ‘ইলদিরিমহান’ (Yildirimhan) নামের এই প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা হতে চলেছে প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, তুরস্কের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করে ৬,০০০ কিমি দূরের যেকোনো লক্ষ্যবস্তু নিমেষেই ধ্বংস করা সম্ভব। ভৌগোলিক হিসেব অনুযায়ী, তুরস্ক থেকে আমেরিকা এবং ভারতের দূরত্ব প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার। ফলে, তুরস্কের এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় ভারত ও আমেরিকা দুই দেশই চলে আসছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সাহা ২০২৬ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে বড় চমক
‘বিবিসি তুর্কি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬’ (SAHA 2026) প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরিকল্পনাটি বিশ্বের সামনে আনে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্ত হলে তুর্কি বিমান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তি এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যাবে। তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্মোচন উপলক্ষে প্রকাশিত একটি প্রমোশনাল বা প্রচারমূলক ভিডিও ঘিরে। সেই ভিডিওর মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ভারত পর্যন্ত অঞ্চলকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য প্রভাব বলয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কেন এই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক?
সাধারণত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে তীব্র আপত্তি জানায়, যা সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক স্তরে ‘মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম’ (MTCR)-এর একটি কঠোর নিয়ম রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর বাইরে অন্য কোনো দেশ ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে পারে না। কোনো দেশ এই সীমারেখা লঙ্ঘন করলে ওয়াশিংটন সাধারণত তাদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কতটা সংবেদনশীল, তার প্রমাণ মেলে সাম্প্রতিক এক ঘটনায়। পাকিস্তানের এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রস্তাবে স্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। মহাশক্তিধর এই আইসিবিএম-কে আমেরিকা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি বলে মনে করে। আর ঠিক এই কারণেই তুরস্কের ‘ইলদিরিমহান’ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। আঙ্কারার প্রকাশ করা ভিডিওতে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টার্গেট রেঞ্জের মধ্যে রাখায় ওয়াশিংটন বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না।

কতটা বিপজ্জনক এই ‘ইলদিরিমহান’?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত বিধ্বংসী হতে চলেছে।

গতি: ৪টি শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়েও ২৫ গুণেরও বেশি (Mach 25+) গতিতে ছুটতে সক্ষম।

জ্বালানি: এতে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড এবং এর বিশেষ উপজাত।

বহন ক্ষমতা (Payload): ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩,০০০ কিলোগ্রাম বা ৩ টন ওজনের যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে পারবে। যেখানে ‘মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম’-এর সর্বোচ্চ সীমা মাত্র ৫০০ কিলোগ্রাম, সেখানে তুরস্কের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সেই সীমা প্রায় ৬ গুণ অতিক্রম করতে চলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও এখনো এর কোনো বাস্তব পরীক্ষা বা ট্রায়াল রান চালানো হয়নি। অন্যদিকে, আঙ্কারার এই আকাশছোঁয়া সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে গুঞ্জন শুরু হলেও, আমেরিকা, ভারত বা অন্য কোনো দেশ এখনো পর্যন্ত অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানায়নি। তবে পর্দার আড়ালে যে বিশ্ব কূটনীতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, তা বলাই বাহুল্য।