নতুন সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠক শেষ! DA নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী? ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষকেরা!

তৃণমূল জমানার দীর্ঘ আন্দোলন, ধর্না এবং আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। সকলের নজর ছিল নবান্নে নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠকের দিকে। কিন্তু গতকালের সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকেও মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তীব্র হতাশা ছড়িয়েছে শিক্ষক মহলে।
তৃণমূল আমলের সেই ‘বঞ্চনা’ ও ধর্মঘট
বিগত তৃণমূল সরকারের শেষ সময়ে ৪% ডিএ বৃদ্ধি করা হলেও, শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ ছিল তাঁরা কার্যত ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন। মেলেনি দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতাও। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে ভোটের ঠিক আগে, গত ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে স্কুল স্তরে বড়সড় ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।
এর পরই তৎকালীন অর্থ দপ্তরের তরফে তৎপরতা শুরু হয়। গত ১ এপ্রিল শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ডিএ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছিল তৎকালীন অর্থ দপ্তর।
নবান্নে ফাইল চালাচালি, সুপ্রিম কোর্টের বিতর্ক
২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিআর (DR) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ কতটা এগোল, তা খতিয়ে দেখতে স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) জানতে চাওয়া হয়েছিল। শিক্ষাদপ্তর থেকে সেই বকেয়া ডিএ-র ফাইল নবান্নে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত লাভের লাভ কিছুই হয়নি।
অভিযোগের তির: সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে তৎকালীন রাজ্য সরকার যে ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করেছিল, তাতে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’ (অনুদানপ্রাপ্ত)-এর বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে সরব হয়েছিলেন শিক্ষকেরা। তাঁদের আশা ছিল, নতুন সরকার গঠনের প্রথম কয়েকটি বৈঠকেই ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা আসবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
“আমরা হতাশ, তবে…” কী বলছেন শিক্ষক নেতারা?
নতুন সরকারের এই নীরবতায় শিক্ষক মহলে অসন্তোষ বাড়ছে। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন:
“নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনের (7th Pay Commission) কথা বলা হলেও, মহার্ঘ ভাতার (DA) মতো জ্বলন্ত বিষয়ে কোনও আলোচনাই করা হয়নি। সরকারের এই ভূমিকায় আমরা অত্যন্ত হতাশ।”
তবে একই সাথে তিনি আশাপ্রকাশ করে জানান, “আমরা এখনও আশা ছাড়ছি না। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার ডিএ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং শিক্ষকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবে।”
এখন দেখার, শিক্ষক সংগঠনগুলির এই আল্টিমেটামের পর নতুন রাজ্য সরকার আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয়।