মাঝরাতে আইসক্রিম হাতে জিতু-নবনীতা! সায়নীর এক অভিযোগে ভাঙা সংসার জোড়া লাগল রাত ২টোয়?

টলিউডের অন্দরে সম্পর্কের ভাঙা-গড়ার খেলা নতুন কিছু নয়। তবে ২০২৪ সালে সোশাল মিডিয়ায় এসে জিতু কমল ও নবনীতা দাস যখন নিজেদের ডিভোর্সের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন টালিপাড়ায় কম কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হয়নি। সেই সময়ে এক খ্যাতনামা নায়িকার সঙ্গে জিতুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি, কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল অভিনেতার বন্ধুত্বকেও। কিন্তু সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নাটকীয় মোড় নিল ২০২৬ সালের ১৬ মে, শুক্রবার গভীর রাতে।

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ফের একফ্রেমে ধরা দিলেন এই প্রাক্তন তারকা দম্পতি। শুধু একফ্রেমে আসাই নয়, মধ্যরাতে আইসক্রিম হাতে পরস্পরের সঙ্গে খুনসুঁটিতেও মাতলেন তাঁরা। এই আকস্মিক পুনর্মিলন দেখে যখন অনুরাগীরা নস্ট্যালজিক, তখনই নেটপাড়ার বড় অংশের প্রশ্ন— তবে কি ‘ভিলেন’ সায়নী ঘোষের তাগিদেই রাত ২টোর সময়ে হঠাৎ দেখা দুই প্রাক্তনের?

ব্য়াপারটা খোলসা করে বলা যাক। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবারের একটি ভার্চুয়াল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। যাদবপুরের তারকা সাংসদ তথা জিতুর সহ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ জিতুকে উদ্দেশ্য করে এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। সায়নী দাবি করেন, “বিরাটির ঘটনার পর আপনার প্রাক্তন স্ত্রী আলাদা করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। হয়তো আপনার করা কিছু কুকর্ম সংক্রান্ত বিষয় আমাকে অবগত করার জন্যই… এখন মনে হচ্ছে ওঁর ফোনটা তুললে বেশি ভালো হতো।”

সায়নীর এই ‘কুকর্ম’ তত্ত্বের তির ধেয়ে আসতেই যেন নড়েচড়ে বসেন জিতু। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বিচ্ছেদের আড়াই বছর পর সেই রাতেই প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতাকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেতা। আর লাইভের জন্য জিতু বেছে নেন কেন্দুয়া শান্তি সংঘের মণ্ডপ চত্বরকে— যেখানে একসময়ে সায়নী ঘোষের ছবিতে ছয়লাপ থাকত এই পুজো প্যান্ডেল। শত্রুর গড়ে দাঁড়িয়েই সায়নীর দাবিকে নস্যাৎ করতে পাল্টা আক্রমণ শানান জিতু।

প্রাক্তনের পাশে নবনীতা, সায়নীকে তীব্র আক্রমণ
লাইভে ‘অপরাজিত’ খ্যাত অভিনেতা সায়নীকে তীব্র বিঁধে বলেন, “ঘোষ মহাশয়া দাবি করেছেন, আমি নাকি নবনীতার সঙ্গে দিনের পর দিন কুকর্ম করেছি! বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই একটা নোংরা ট্রেন্ড রয়েছে যে, কেউ ডিভোর্স করলেই কাদা ছেটানো শুরু হয়। কিন্তু আমরা এই নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজকে দেখিয়ে দেব যে, ডিভোর্স হওয়ার পরেও আজীবন খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকা যায়।”

একই সঙ্গে কেন্দুয়া শান্তি সংঘের পুজোয় সায়নী নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও পরোক্ষ অভিযোগ তোলেন জিতু। প্রাক্তনের পাশে দাঁড়িয়ে নবনীতাও সুর মিলিয়ে বলেন, “এই পুজো সার্বজনীন, কারও একার নয়।” নবনীতার এমন উপস্থিতি এবং মন্তব্যেই পরিষ্কার যে, প্রাক্তনের গায়ে লাগা ‘কুকর্মে’র দাগ মুছতেই তিনি মাঝরাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

সায়নীর পাল্টা তোপ: “লুজ প্লট, সস্তার স্ক্রিপ্ট এবং খারাপ অভিনয়”
জিতু-নবনীতার এই ফেসবুক লাইভ দেখার পর সায়নী ঘোষ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে জানান, ”রাহুল অরুণোদয় দার অকাল প্রয়াণের পর তাঁর বন্ধু ও সহকর্মীদের ডাকা মিছিলে যিনি শোক প্রকাশের থেকে বেশি নিজের ছবি হাতে নিয়ে মিডিয়ার ফুটেজ খাওয়াতে বেশি আগ্রহী ছিলেন, এরম স্বার্থপর এবং সুবিধাবাদী মানুষের অবান্তর মন্তব্যের আর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।”

সায়নী আরও যোগ করেন, “সহঅভিনেত্রীদের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র জুনিয়রদের তিরস্কার করা, পারিশ্রমিক নিয়েও শুটিং সংক্রান্ত বিতর্ক—তার বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ ইন্ডাস্ট্রিতে কান পাতলেই শোনা যায়। তাই নীতি-নৈতিকতা নিয়ে জ্ঞানের বাণী সে নাহয় নাই বা দিল।”

বিবৃতিতে পুরোনো এক ঘটনার উল্লেখ করে সায়নী জানান, ২০২২ সালে জিতু ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনায় ৪ জন গ্রেফতার হয়েছিল এবং এক জন police কর্মীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল। এই বিষয়টির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তিনি যতটুকু সহযোগিতা করার করেছিলেন।

জিতুকে সরাসরি কটাক্ষ করে যাদবপুরের সাংসদ বলেন, ”আসলে নিজেকে স্বঘোষিত “সত্যজিৎ রায়” ভাবার চাপটা বোধহয় মানসিক ভাবে এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে বাস্তবে মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আর নিজের করা আত্মপ্রচারের সীমারেখাটা আজকাল গুলিয়ে যাচ্ছে। তাই তাঁর তৈরি করা মধ্যরাতের মঞ্চ সাজিয়ে সস্তা নাটক, আত্মপ্রচারের মরিয়া চেষ্টা আর বাস্তববোধহীন অবান্তর কথাবার্তা, আর কিছুই না তার ডেসপারেশন এবং জব লেসনেস (বেকারত্ব) তুলে ধরে। পুরোটাই লুজ প্লট, সস্তার স্ক্রিপ্ট এবং খারাপ অভিনয়ের ওপর দিয়ে চলছে।”

বিবৃতির শেষে সায়নী টিপ্পনী কেটে বলেন, “আমি আনন্দিত যে আমার দেওয়া গুরুত্বের ওপর ভর করে আরও কয়েক মুহূর্ত সে অন্তত সোশাল মিডিয়াতে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবে। একসময়ের সহ-অভিনেত্রী হিসেবে তার জন্য নাহয় এইটুকু করলামই।”

অতীত সমীকরণ ও বর্তমানের মোড়
২০১৯ সালে ধুমধাম করে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন জিতু ও নবনীতা। সোশাল মিডিয়ায় তাঁদের মাখোমাখো রসায়ন যখন চর্চায়, ঠিক তখনই জিতুর কেরিয়ারে আসে এক বিরাট সাফল্য। ‘অপরাজিত’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছন তিনি। আর ঠিক তারপরেই তাঁদের দাম্পত্যে লাগে ঝোড়ো হাওয়া, যা ২০২৪ সালে আইনি বিচ্ছেদে রূপ নেয়।

কিন্তু আড়াই বছরের সেই দূরত্ব ঘুচে গেল সায়নী ঘোষের একটা মাত্র অভিযোগে। প্রাক্তন স্ত্রীর হাত ধরে জিতু যেভাবে মাঠে নামলেন, তাতে টালিপাড়ার এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং বাকযুদ্ধ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা নেটপাড়ার।