“এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হতেই পারে না!” শুভেন্দুকে দরাজ সার্টিফিকেট মিঠুনের, কিন্তু কোন ‘গোপন মিশন’ নিয়ে দুজনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক?

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর মুখোমুখি হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার জেলা সফরে বেরোনোর আগে নিউটাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর বাসভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর দুই হেভিওয়েটের এই একান্ত সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তবে কি নতুন সরকারে কোনো বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে চলেছে মিঠুন চক্রবর্তীকে? শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
“আমি মিঠুনদার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী”
এদিন নিউটাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মিঠুন চক্রবর্তী নিজেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রবীণ এই তারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মিঠুনদা নন, আমিই ওঁর কাছে ছুটে এসেছি।” সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে ‘মিঠুনদার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী’ বলেও অভিহিত করেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি-র ক্ষমতায় আসার নেপথ্যে মিঠুন চক্রবর্তীর অবদানকে মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের ব্রিগেডের সভার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরেন্দ্র মোদীজীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডের মাঠে রাজ্যে পরিবর্তনের শপথ নিয়েছিলেন মিঠুনদা। তাঁর নিরলস পরিশ্রম, কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে স্বপ্ন ছিল, গত ৯ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজেপি-র প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের বৃত্ত পূরণ হয়েছে।”
পর্দার পিছনের আসল কারিগর কে?
নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে মিঠুন চক্রবর্তী যেভাবে রাজ্যে প্রচার চালিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, বিগত ১৫ বছরের বিপর্যয় থেকে বাংলাকে বাঁচাতে এবং মা-বোনেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিঠুন চক্রবর্তী নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনো সাংবিধানিক পদের লোভ ওঁর নেই। দলের জাতীয় স্তরের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিগত আট-দশ মাস ধরে উনি যেভাবে বুথ স্তরে ইনডোর মিটিং, একের পর এক জনসভা এবং রোড শো করেছেন, তার কোনো তুলনা হয় না। আমি জনগণের ভোটে এবং দলের মনোনয়নে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি ঠিকই, তবে এই জয়ের নেপথ্যে যে ক’জন আসল কারিগর রয়েছেন, মিঠুন চক্রবর্তী তাঁদের মধ্যে অন্যতম।”
“এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী আর হতেই পারে না”
মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন ‘মহাগুরু’ও। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “আমি সবাইকে একটাই কথা বলব, এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আর হতে পারে না। শপথ নেওয়ার পর মুহূর্ত থেকেই উনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, আমরা আশীর্বাদধন্য যে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আগামী দিনে এই যোদ্ধা একের পর এক লড়াই লড়বেন, আর আমি তো পিছনে রয়েইছি।”
অলক্ষ্যে কোন রূপরেখা তৈরি হচ্ছে?
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই দীর্ঘ বৈঠকের নেপথ্যে কি বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে? রাজ্য রাজনীতিতে মিঠুন চক্রবর্তীকে কি নতুন কোনো ভূমিকায় দেখা যাবে?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও শুভেন্দু অধিকারী জল্পনা জিইয়ে রেখে বলেন, “মিঠুনদা আমাদের দলের জাতীয় সদস্য এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। নির্বাচনী প্রচারের সময় উনি কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। আগামী তিন-চার মাসে মিঠুনদা কী কী কাজ করবেন এবং সরকারের তরফে আমাকে কী কী করতে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে সব কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলা সম্ভব নয়।”
রাজনৈতিক আলোচনার মাঝেই উঠে আসে কিছুটা হালকা মেজাজের প্রসঙ্গও। মিঠুন চক্রবর্তীর সিনেমা দেখেন কিনা, এই প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী হাসিমুখে জানান, অষ্টম শ্রেণির পর তিনি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে মহাগুরুর জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে সুযোগ পেলেই এখনো মোবাইলে বা ইউটিউবে মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয় দেখেন তিনি।
নতুন সরকারের পথচলার শুরুতেই দুই তারকার এই রসায়ন এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠক আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো নতুন মোড় আনে কিনা, এখন সেটাই দেখার।